গাইবান্ধায় ঋণ করে সৌদি আরবে গিয়ে ফিরলেন লাশ হয়ে

স্বপ্ন পূরণের আশায় পরিবারের ভিটে মাটি বিক্রি করে ৩ লাখ টাকা, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক গোবিন্দগঞ্জ শাখা থেকে আরো ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন রানা মিয়া। ভালো কোম্পানিতে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিলেও সেখানে পৌঁছে রানা মিয়া বুঝতে পারেন, তাকে চাকরির ভিসায় নয়, ট্যুরিস্ট ভিসায় পাঠানো হয়েছে।

সংসারের স্বচ্ছলতার আশায় দালালের প্রলোভনে পড়ে সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের রানা মিয়া (৩৫)। কিন্তু দেড় বছরের মাথায় দেশে ফিরল তার মরদেহ। রানা মিয়ার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও এলাকায়।

পরিবারসূত্রে জানা যায়, স্বপ্ন পূরণের আশায় পরিবারের ভিটে মাটি বিক্রি করে ৩ লাখ টাকা, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক গোবিন্দগঞ্জ শাখা থেকে আরো ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন রানা মিয়া। স্থানীয় দালাল শিবপুর ইউনিয়নের সেলিম মিয়ার মাধ্যমে তিনি সৌদি আরবে যান। ভালো কোম্পানিতে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিলেও সেখানে পৌঁছে রানা মিয়া বুঝতে পারেন, তাকে চাকরির ভিসায় নয়, ট্যুরিস্ট ভিসায় পাঠানো হয়েছে।

এরপর দালাল চক্রের অধীনে তিনি বিভিন্ন কষ্টকর কাজ করতে বাধ্য হন। কয়েক মাসের বেতনের পুরো টাকা দালালের দল নিয়ে নেয়। প্রতারণার বিষয়টি জানালেও দালাল সেলিম কোনো ব্যবস্থা নেননি।

অবশেষে জীবন-জীবিকার তাগিদে তিনি আবার ধার করে ৬০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন। সেই টাকায় একটি মোটরসাইকেল কিনে ফুড ডেলিভারির কাজ শুরু করেন। কিন্তু সেই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে গিয়েই গত ৯ সেপ্টেম্বর এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।

বহু প্রচেষ্টায় সোমবার রানা মিয়ার মরদেহ দেশে আনা হয়। দুপুরে ঢাকায় পৌঁছানোর পর সন্ধ্যায় অ্যাম্বুলেন্সে তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি পৌঁছায়। পুরো গ্রাম জুড়ে তখন শোকের মাতম।

রানা মিয়ার রেখে যাওয়া স্ত্রী আরেফা বেগম এখন দুই সন্তান নিয়ে দিশেহারা। বড় ছেলে আরাফাত (১১) তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে, ছোট ছেলে রাফির বয়স মাত্র ৫। স্বামীর মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ আরেফা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ভাবছিলাম স্বামী টাকা রোজগার করে ফিরবে, সংসারে স্বচ্ছলতা আসবে। কিন্তু দালালের প্রতারণায় সব শেষ হয়ে গেল।’

গ্রামের মানুষ দালাল সেলিম মিয়ার বিচার দাবি করেছেন। একই সঙ্গে অসহায় পরিবারটির মাথা গোঁজার ঠাঁই ও দুই শিশুর ভবিষ্যতের জন্য সরকারি-বেসরকারি সহায়তা কামনা করেছেন তারা।

আরও