দুর্নীতি ও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি বিমান বাহিনীর কেনাকাটায়

দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রতিটি রাষ্ট্রই সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ছে, যুদ্ধবিমান, রাডার, সাবমেরিন থেকে শুরু করে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনা হচ্ছে বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে।

দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রতিটি রাষ্ট্রই সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ছে, যুদ্ধবিমান, রাডার, সাবমেরিন থেকে শুরু করে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনা হচ্ছে বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে। বড় ধরনের এসব সমরাস্ত্র ক্রয়ের প্রায় অধিকাংশ ঘটনাতেই উঠে আসে বিতর্ক ও আর্থিক কেলেঙ্কারির খবর। ভারতে ২০১৬ সালে ফ্রান্স থেকে ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনায় মূল্যবৃদ্ধি, ঘুস এবং অনভিজ্ঞ রিলায়েন্স ডিফেন্সকে সুযোগ দেয়ায় ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। আশির দশকে সুইডিশ কোম্পানি থেকে হাউইটজার কেনায় ‘বোফর্স কেলেঙ্কারি’ সারা বিশ্বে আলোচনায় ছিল বহুদিন। ২০১০ সালে ভারতে ইউপিএ সরকারের আমলে ফ্রান্সের ফিনমেকানিকার সহযোগী প্রতিষ্ঠান আগুস্তা ওয়েস্টল্যান্ড থেকে ১২টি ভিভিআইপি হেলিকপ্টার কেনার চুক্তিতে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। যেখানে সোনিয়া গান্ধীর নাম উঠে আসে। এছাড়া পাকিস্তানে যুদ্ধবিমান ও সাবমেরিন কেনা নিয়েও ঘুসের অভিযোগ আছে, যদিও সেগুলোর তদন্ত বা মামলা হয়নি। নিরাপত্তার ছায়ায় ঢাকা এ খাতটিতে দুর্নীতির অভিযোগ ও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি বাংলাদেশেও। অভিযোগ রয়েছে, ১৯৮২ সালে ক্ষমতা দখলের পর পরই রাডার মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা করে ফ্রান্সের সিএসএফের বদলে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্টিংহাউজ কোম্পানির রাডার কেনেন প্রয়াত স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগের শাসনামলে মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ক্রয়ের ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছিল আর্থিক কেলেঙ্কারির।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাধারণত সামরিক খাতে কেনাকাটাগুলো অধিকাংশ সময়েই ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে’ গোপন রাখা হয়। এর সুযোগে সেখানে যুক্ত হয় রাজনৈতিক প্রভাব। প্রবেশ করে অনিয়ম ও দুর্নীতি। ‘ক্রয় ও কমিশনের জটিলতা’ অনেক সময় দুর্নীতির আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে।

১৯৯২ সালের ৪ মে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো একটি মামলা করে। অভিযোগ বলা হয়, ১৯৮১ সালের রাডার মূল্যায়ন কমিটি ফ্রান্সের সিএসএফ থেকে রাডার কেনার সুপারিশ করে। কিন্তু ১৯৮২ সালে ক্ষমতা দখলের কিছুদিন পর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা করে ফ্রান্সের সিএসএফের বদলে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্টিংহাউজ কোম্পানির রাডার কেনেন। যার ফলে সরকার ৬৪ কোটি ৪ লাখ ৪২ হাজার টাকার ক্ষতির মুখে পড়ে। ১৯৯৪ সালে চার্জশিট, ১৯৯৫ সালে অভিযোগ গঠন হয়। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে ২০১৭ সালে আদালত এরশাদসহ সবাইকে খালাস দেন।

১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাশিয়া থেকে মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে আরেকটি মামলা হয় ২০০১ সালে। তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বে জোট সরকার শেখ হাসিনাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে যে তারা অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যুদ্ধবিমান কিনে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় করেছেন। পরে ২০১০ সালে হাইকোর্ট শেখ হাসিনাকে অব্যাহতি দেন। ২০১১ সালে ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত বাকি আসামিদেরও খালাস দেন। এ মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান জামাল উদ্দিন আহমেদ ও সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব ইউসুফ হোসেন।

ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবরের মতে, এসব কেলেঙ্কারির মূল উৎস রাজনৈতিক প্রভাব। তিনি বলেন, ‘যেকোনো পারচেজে দুর্নীতি রাজনৈতিক পর্যায় থেকেই শুরু হয়। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সহযোগিতা ছাড়া এমন দুর্নীতি সম্ভব নয়। তাদের প্রভাবের কারণেই এক টাকার জিনিস দশ টাকায় কিনতে হয়।’ তার মতে, ‘কমিশনের বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে কিছু নির্ধারিত মান থাকতে পারে, তবে বাস্তবে দেখা যায়—১০০ টাকার জিনিস ২৫০ টাকায় কেনা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘দুর্নীতি শুধু সামরিক খাতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশে একপ্রকার প্রথাগত দুর্নীতির সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। গত ১৫ বছরে যেমন আমাদের দেশে মেগা প্রকল্প মানেই যেন মেগা দুর্নীতি ছিল।’

বিশেষ করে প্রতিরক্ষা খাতে যে অতিরিক্ত গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়, সেটাও দুর্নীতির সুযোগ বাড়িয়ে দেয় বলে মনে করেন তিনি। তার কথায়, ‘যখন দেশের স্বার্থে অস্ত্র কেনা হবে, তখন টেকনিক্যাল বিষয়গুলো ছাড়া কী কিনছি কত টাকায় কিনছি এসব বিষয়ে গোপনীয়তার দরকার নেই। স্বচ্ছতা থাকলে দুর্নীতি কমবে ।’

বাংলাদেশ ভূরাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থানে রয়েছে। তার পরও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের প্রেক্ষাপটে শক্তিশালী ও পূর্ণাঙ্গ আকাশ প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তুলতে পারেনি। বিশ্বের সামরিক শক্তিগুলো নিজেদের নিরাপত্তা বলয় গঠনে ‘মাল্টি-লেয়ার্ড এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম’-এর ওপর নির্ভর করছে অথচ বাংলাদেশ এখনো পুরনো স্বল্পপাল্লার প্রতিরক্ষা কাঠামোর মধ্যেই আবদ্ধ। বিমান বাহিনীর হাতে আছে ৪৪টি যুদ্ধবিমান, যার মধ্যে ৩৬টি চীনের তৈরি পুরনো মডেলের এফ-৭ ও আটটি সোভিয়েত যুগের মিগ-২৯। প্রশিক্ষণ কাজে ব্যবহৃত রুশ ইয়াক-১৩০ যুদ্ধবিমান ১৪টি, যা হালকা আক্রমণেও ব্যবহারযোগ্য। এসব বিমানের অনেকই দ্বিতীয় বা তৃতীয় প্রজন্মের, যার ফলে এরা আধুনিক স্টিলথ বা রাডার-অ্যাভাসিভ প্রযুক্তির মুখোমুখি হলে অকার্যকর হতে পারে। বিমান বাহিনীর বহরে হেলিকপ্টার রয়েছে ৭৩টি। এর মধ্যে রাশিয়ার এমআই সিরিজের ৩৬টি হেলিকপ্টার আছে। সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত সেসনা, বেলের বিভিন্ন মডেলের হেলিকপ্টার আছে ২৪টি।

বিমান বাহিনীর বহরে বর্তমানে যে দুটি মূল যুদ্ধবিমান রয়েছে, সেগুলো হলো মিগ-২৯ এবং এফ-৭। মিগ-২৯ যখন কেনা হয় তখনকার প্রেক্ষাপটে এগুলো যথেষ্ট আধুনিক ও কার্যকর বিবেচিত ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধবিমানের প্রযুক্তিতে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে, আর সে তুলনায় এগুলোর বর্তমান সক্ষমতা অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে চীনের তৈরি এফ-৭ হচ্ছে পুরনো সোভিয়েত মিগ-২১-এর উন্নত সংস্করণ। তবে বর্তমান সময়ে এর প্রযুক্তি কার্যত পুরনো। আধুনিক কমব্যাট সক্ষমতা, মাল্টিরোল ফিচার বা উন্নত নেভিগেশন এতে অনুপস্থিত। এফ-৭ যুদ্ধবিমানগুলো ২০১১ সালে চীনের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান জেনস ইনফরমেশন গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, এটি চেংদু জে-৭/এফ-৭ সিরিজের সর্বশেষ ও সবচেয়ে উন্নত সংস্করণ। বাংলাদেশের জন্য উৎপাদিত ১৬টি বিমান ২০১২-২০১৩ সালের মধ্যে নির্মাণ ও সরবরাহ সম্পন্ন হয়। এরপর ২০১৩ সালে এ মডেলের উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। অর্থাৎ এ সিরিজের বিমানগুলোর সর্বশেষ ক্রেতা ছিল বাংলাদেশ। চীন উৎপাদন বন্ধ করার সময়ই বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এসব বিমানকে অপারেশনাল ব্যবহার থেকে সরিয়ে ফেলে। জেনস ডিফেন্স উইকলি এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, ‘এ যুদ্ধবিমানগুলো প্রযুক্তিগতভাবে অপ্রচলিত এবং আধুনিক আকাশযুদ্ধের জন্য অনুপযোগী।’ চীন, মিয়ানমার, নাইজেরিয়া, জিম্বাবুয়ে, তানজানিয়া ও শ্রীলংকায়ও এ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটেছে। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে এ সিরিজের যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটেছে চারবার। সর্বশেষ উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুলের ভবনে বিধ্বস্ত হওয়ার পর এটি ব্যবহারের বাস্তবতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

চীনের কাছ থেকে কেনা এফ-৭ যুদ্ধবিমান প্রসঙ্গে মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর বলেন, ‘এ সিরিজের শেষ লট বাংলাদেশ কিনেছিল, তখন এগুলো ব্র্যান্ড নিউ ছিল ঠিকই, কিন্তু এর পরই উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। গত এক দশকে যেভাবে প্রযুক্তি এগিয়েছে, তাতে এ বিমানগুলোকে এখন আউটডেটেড বলা যায়। এখন সময় এসেছে শুধু দাম নয়, যুদ্ধক্ষেত্রে ইফেক্টিভনেস বিবেচনায় নিয়ে সামরিক সরঞ্জাম কেনার। আমাদের এখন এমন যুদ্ধবিমান কেনা উচিত, যা অন্তত পঞ্চম প্রজন্মের নিচে না হয় ।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় প্রতিটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রই আধুনিক সমরাস্ত্র তৈরি কিংবা কেনার ক্ষেত্রে ব্যয় বাড়িয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। যদিও বাংলাদেশ চলছে উল্টো পথে। টাকার অংকে নিট প্রতিরক্ষা বাজেটে বরাদ্দ বাড়লেও কমেছে ডলারের হিসাবে। আবার বাজেটের বেশির ভাগই চলে যাচ্ছে পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়নে। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-২২ সময়কালে অস্ত্র আমদানি আগের পাঁচ বছরের তুলনায় কমেছে প্রায় ৪৮ শতাংশ। অন্যদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ‘গভর্নমেন্ট ডিফেন্স ইন্টেগ্রিটি ইনডেক্স ২০২০’-এর তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের ৬২ শতাংশ দেশই প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে দুর্নীতির উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এ তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে। বাংলাদেশের সামগ্রিক স্কোর মাত্র একশর মধ্যে ২৫, যা একেবারে ‘ই’ ক্যাটাগরিতে পড়ে—অর্থাৎ দুর্নীতির সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মি এভিয়েশনে কর্মরত ছিলেন কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ সোহেল রানা। সার্বিক বিষয়ে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশেই সামরিক ক্রয়ে কমিশন বাণিজ্য একটি প্রচলিত ও অনেক ক্ষেত্রে বৈধ প্রক্রিয়া। তবে বাংলাদেশসহ অনেক দেশে এসব বিষয় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়, যা প্রকৃত সমস্যা সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, ‘এসব মামলার পেছনে অনেক সময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকে। পরে দেখা যায় আরেক সরকারের শাসনামলে, বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারাই মামলার আসামি হয়ে যান। এতে করে শীর্ষ কর্মকর্তা সরঞ্জাম কেনাকাটায় অনুৎসাহিত হয়ে পড়তে পারেন। সাবেক এ সেনা কর্মকর্তার মতে, ‘এ সংস্কৃতি সামরিক বাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।’

সামরিক সরঞ্জাম কেনাকাটায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবকেই মূল সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মাহমুদ হোসেন। তার মতে, ‘রাজনৈতিকীকরণই এসব দুর্নীতির মূল কারণ। বড় অংকের যেকোনো সামরিক কেনাকাটায় রাজনৈতিক প্রভাব থাকে এবং নীতিনির্ধারণে রাজনৈতিক চাপ অনেক সময় এতটাই প্রবল হয় যে সদিচ্ছা থেকে উপযুক্ত সরঞ্জাম কেনা যায় না।’

তিনি মনে করেন, সামরিক কেনাকাটার ক্ষেত্রে একটি জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত গ্রহণই সবচেয়ে জরুরি। এজন্য শক্তিশালী ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল গঠন করা যেতে পারে। যেখানে সেনা, বেসামরিক, প্রযুক্তিগত ও কূটনৈতিক সব স্তরের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। সেখানে আলোচনা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঠিক করা হবে কী ধরনের সরঞ্জাম দরকার, কেন দরকার এবং কত বছরের মধ্যে তা সংগ্রহ করা হবে। মাহমুদ হোসেনের মতে, এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো থাকলে একদিকে যেমন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রভাব হ্রাস পেয়ে বাহিনীগুলো আরো স্বাধীনভাবে আধুনিকায়নের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

আরও