গাইবান্ধার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের রিফাইতপুর সরকারতারী গ্রামের বাসিন্দা সাহাবুদ্দিন। পেশায় দিনমজুর। ছোটবেলায় শখের বশে বন্ধুদের সঙ্গে ‘রনপা’ ব্যবহার করে হাঁটাচলা করতেন। সেই থেকে ভালো লাগা। ৬৭ বছর বয়সে এসেও ‘রনপা’য়ে হেঁটে মানুষকে তিনি আনন্দ দিয়ে যাচ্ছেন। কেউবা আবার তার মতো করেই হাঁটার চেষ্টা করেন।
বাঁশ দিয়ে বিশেষ কায়দায় তৈরি করা এক জোড়া লাঠিকে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ‘ঠেংগুয়া’, যা ‘রনপা’ হিসেবে পরিচিত। গ্রামে বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানে আগে দর্শনার্থীকে আনন্দ দিতে এটি ব্যবহার করে হাঁটার প্রচলন ছিল। গ্রামবাংলার সে হারানো ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন গাইবান্ধার রিফাইতপুর সরকারতারী গ্রামের মৃত শুকুর উদ্দিনের ছেলে সাহাবুদ্দিন। সময় পেলেই বের হন ‘রনপা’ নিয়ে। মাইলের পর মাইল মনের আনন্দে ঘুরে বেড়ান কোনো ক্লান্তি ছাড়াই। জমির ধান দেখাশোনা, বাজার করতে গেলেও চড়েন রনপায়ে। এমনকি পুকুরের পানিতেও লাঠি জোড়ায় ভর করে হেঁটে বেড়ান বৃদ্ধ সাহাবুদ্দিন।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে জানান, রাস্তা দিয়ে সাহাবুদ্দিনের এমন চলাচল দেখে উৎসুক জনতা প্রায়ই ভিড় করে। অনেক আনন্দ পায় হারানো খেলার এ ঐতিহ্যকে ফিরে পেয়ে। এমন হাঁটাচলা দেখে এলাকার অনেকেই তার মতো রনপা দিয়ে হাঁটা শিখছে।
বাদিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. নুর আলম সরকার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে ঠেংগুয়ার ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন সাহাবুউদ্দিন। বাঁশ দিয়ে তৈরি করা লাঠিতে তার হাঁটা দেখে অনেকের ছোটবেলার স্মৃতি মনে পড়ে যায়।’