মানি
লন্ডারিং আইনের মামলায় নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক
শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মো. মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরীসহ পাঁচজনের
বিচার শুরু হয়েছে। বিচারিক কার্যক্রমের প্রথম দিনে সাক্ষ্য দিয়েছেন মামলার বাদি ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা।
আজ
বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিচারক বদরুল আলম ভুঁইয়ার বিশেষ আদালতে উপস্থিত ছিলেন শামীমা
নূর পাপিয়া, তার
স্বামী মফিজুর রহমান চৌধুরী এবং তাদের দুই সহযোগী সাব্বির খন্দকার ও শেখ তায়িবা
নূর। এই মামলার অন্য আসামি জুবায়ের আলম জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছেন। মামলার সাক্ষ্য
গ্রহণের জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ৫ মার্চ।
মামলার
প্রথম সাক্ষী হিসেবে আদালতে উপস্থিত ছিলেন মামলার বাদি ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ
তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমের পুলিশ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান। বণিক
বার্তাকে তিনি বলেন, ‘এ মামলায় সর্বমোট ৪৬ জন সাক্ষী রয়েছেন। আগামী
দিন আরো ৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন আদালত। ২৬টি রুমের বিল বাবদ শামীমা নূর পাপিয়া
ওয়েস্টিন হোটেলে ৩ কোটি ২৩ লাখ ২৪ হাজার ৭৬১ টাকা পরিশোধ করেন। এর প্রমাণ আদালতে
হাজির করা হয়েছে।’
মানি
লন্ডারিং আইনের এই মামলায় সিআইডি দেয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অবৈধভাবে পাঁচ কোটি
টাকার মালিক হন পাপিয়ার স্বামী নরসিংদীর মফিজুর রহমান। এ টাকার উৎস যাতে কেউ জানতে
না পারে, সে জন্য তা ব্যাংকে
না রেখে খাটের নিচে লুকিয়ে রেখেছিলেন। বাসায় এত টাকা রাখার তথ্য স্ত্রী শামীমা নূর
ওরফে পাপিয়াকেও জানাননি তিনি। তবে মফিজুর যখন ভারতে অবস্থান করেন, তখন পাপিয়া বাসার খাটের নিচে টাকা থাকার তথ্য জেনে যান। পরে এ অবৈধ টাকা
খরচ করেন পাপিয়া।
তিন
বছর আগে ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে
দুজন সঙ্গীসহ পাপিয়া এবং তার স্বামীকে আটক করে র্যাব। ওই সময় তাদের কাছ থেকে
সাতটি পাসপোর্ট, দুই লাখ
১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ টাকার জাল নোট, ১১ হাজার ৪৮১ ডলার, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের কিছু মুদ্রা
এবং দুটি ডেবিট কার্ড জব্দ হয়। পরে পাপিয়ার ফার্মগেটের বাসার ফ্ল্যাটে অভিযান
চালিয়ে সেখান থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন,
২০ রাউন্ড গুলি, পাঁচ বোতল বিদেশি মদ, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড উদ্ধার
করা হয়।
ওই ঘটনায় মাদক, অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে শেরেবাংলা নগর ও বিমানবন্দর থানায় ৩টি মামলা দায়ের করা হয়। পরে দুদক এ দম্পত্তির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের একটি এবং সিআইডি মানিলন্ডারিং আইনের একটি মামলা করে। মামলাটিতে ২০২১ সালের ২৭ ডিসেম্বর পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেন তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক ইব্রাহিম হোসেন।