জ্বালানি খাতের এ অনিশ্চয়তা আমাদের উৎপাদন ও শিল্পায়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে যে আমাদের অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন প্রতি বছর প্রায় ১০০ এমএমএসসিএফ করে কমে আসছে। অন্যদিকে গ্যাস আমদানির জন্য আমাদের এফএসআরইউ (এলএনজি টার্মিনাল) রয়েছে মাত্র দুটি। সরকারের কাছে পর্যাপ্ত অর্থ থাকলেও নতুন কোনো এফএসআরইউ স্থাপন করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে আরো অন্তত তিন-চার বছর সময় লেগে যাবে।
এ জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় আমার পরামর্শ হলো আমাদের নিজস্ব কয়লা সম্পদ ব্যবহার করা। বড়পুকুরিয়ায় যে বিশাল কয়লার রিজার্ভ রয়েছে, সেখানে আমরা ওপেন পিট কোল মাইনিং বা উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন শুরু করতে পারি কিনা, তা গুরুত্বের সঙ্গে ভেবে দেখা দরকার। আমাদের যে রিজার্ভ আছে, তা ব্যবহার করে আগামী ৩০ বছর পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। আমাদের বর্তমান কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সচল রাখতে এ কয়লা বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। সুতরাং শিল্পের নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজস্ব কয়লা উত্তোলনের বিষয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট চিন্তাধারা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।