ইলিশ ব্র্যান্ডিং জেলা হিসেবে খ্যাত চাঁদপুর। তবে ইলিশ রক্ষণাবেক্ষণ বা রফতানির জন্য ছিল না আধুনিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। ২০১৭ সালে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে চাঁদপুরের তৎকালীন জেলা প্রশাসকের প্রস্তাবে আধুনিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও হিমাগার স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। তবে ভূমির মালিকানা বাংলাদেশ রেলওয়ে থাকায় এটি স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। আট বছর পর আলোর মুখ দেখছে প্রকল্পটি। চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে ইলিশ অবতরণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পে আধুনিক বরফকল, নিলাম শেড, আড়ত, মিনি ডকইয়ার্ড, পানি বিশুদ্ধকরণ ফিল্টার, পন্টুনের পাশাপাশি মাছ হিমায়িতকরণ ও প্যাকেজিংয়ের আধুনিক সুযোগ সুবিধা থাকবে। এছাড়া থাকবে মৎস্য জাদুঘর, মৎস্য ভিত্তিক করপোরেট অফিস স্পেস, ব্যাংক ও রেস্তোরাঁ।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, ‘চাঁদপুরে ইলিশ সংরক্ষণ বা রফতানি সঠিকভাবে হোক সেটা আমি চাই। কেউ চাঁদপুরে এসে ইলিশ নিয়ে যেন প্রতারিত না হয়। দেশ-বিদেশ থেকে আসা পর্যটকরা ইলিশের স্বাদ গ্রহণের সুযোগ পাবেন। তারা এসে যেন প্রতারিত না হন। এ বছর জেলা প্রশাসক সম্মেলনে আমার প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ইলিশ অবতরণ কেন্দ্র স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রস্তাব করেন জেলা প্রশাসক। ওই প্রস্তাবটি সম্মেলনের মধ্যমেয়াদি প্রকল্প হিসেবে গৃহীত হয়। বিএফডিসির মাধ্যমে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার। পদ্মা-মেঘনা ও ডাকাতিয়ার মিলনস্থলে কেন্দ্রটি নির্মাণ হবে। দুই বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কেন্দ্রের কাজ শেষ হলে চাঁদপুরে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ সংরক্ষণে আধুনিক সুবিধা মিলবে। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিনের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বিএফডিসির চেয়ারম্যান ফারাহ শাম্মী কার্যক্রম শুরুর অনুমতি দিয়েছেন। প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে অবতরণ কেন্দ্রটি নির্মিত হবে। চার তলাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক অবতরণ কেন্দ্রে আধুনিক হিমাগার, কোল্ডস্টোরেজ, বরফকল এবং মাছ আনা-নেয়ার জন্য দুটি লরি থাকবে।
চাঁদপুরের প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি সোহেল রুশদি জানান, ইলিশ ব্র্যান্ডিং জেলা হিসেবে খ্যাত চাঁদপুর। কিন্তু ইলিশ রক্ষণাবেক্ষণ বা রফতানির জন্য ছিল না আধুনিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। ইলিশ অবতরণ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।’
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সভাপতি মানিক জমাদার জানান, সরকারিভাবে আধুনিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগটি চমৎকার। এটি বাস্তবায়ন হলে শুধু দেশী নয়, বিদেশী পর্যটকরাও এখানে আসবেন।’