ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক একতরফা শুল্ক আরোপ করেছে। যার মধ্যে রয়েছে তথাকথিত রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ(পাল্টা বা পারস্পরিক শুল্ক)। যা আসলে বাণিজ্য দমননীতির একটি সুষ্পষ্ট উদাহরণ(টেক্সটবুক কেস)। যুক্তরাষ্ট্র এখন শুল্ককে একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। এটি মূলত আধিপত্যবাদী রাজনীতি এবং একতরফা দমননীতি, যা পারস্পরিকতার মোড়কে উপস্থাপন করা হচ্ছে। চীন বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে ঐক্য ও সমন্বয় জোরদার করতে এবং একতরফা দমননীতির বিরুদ্ধে যৌথভাবে রুখে দাঁড়াতে এবং বৈশ্বিক ন্যায় ও ন্যায়বিচার রক্ষায় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে ।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) এসব কথা বলেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। রাজধানীর প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন(ডিক্যাব) আয়োজিত সম্পর্কের ৫০ বছর শীর্ষক সভায় দেয়া লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইয়াও ওয়েন বলেন, রাষ্ট্রপতি সি চিন পিং একবার বলেছিলেন, ‘উন্মুক্ততা অগ্রগতির পথ দেখায়, আর বিচ্ছিন্নতা আনে পশ্চাদপসরণ।’ চীনের পথ পরিষ্কার—আমরা আরও বেশি মাত্রায় নিজেদের উন্মুক্ত করবো। চীনা আধুনিকায়নের মূল বৈশিষ্ট্যই হলো উন্মুক্ততা। বহির্বিশ্বের পরিবেশ যেমনই হোক না কেন, চীন তার উন্মুক্ত থাকার নীতিতে আরও দৃঢ়ভাবে অটল থাকবে। এটি শুধু চীনের উন্নয়ন-অভিজ্ঞতার একটি মৌলিক শিক্ষা নয়, বরং ইতিহাসের একটি অবধারিত গতিপথ।
অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক একতরফা শুল্ক আরোপ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে তথাকথিত পারস্পরিক শুল্ক"—যা আসলে বাণিজ্য দমননীতির একটি সুষ্পষ্ট উদাহরণ(টেক্সটবুক কেস)। এই ধরনের পদক্ষেপ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়ম লঙ্ঘন করে, বৈশ্বিক শিল্প ও সরবরাহ শৃংখলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করছে—যা একটি স্বল্পোন্নত দেশের প্রতি যথার্থও নয়, নৈতিকও নয়। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমানতার ভিত্তিতে সংলাপের মাধ্যমে বাণিজ্য বিরোধ নিষ্পত্তির বাংলাদেশের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং বাংলাদেশের ন্যায্য স্বার্থ রক্ষায় তার পাশে আছি। আমরা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নীতিমালা এবং বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যবস্থাকে সমর্থন করি এবং চীনের সঙ্গে স্বাভাবিক বাণিজ্য ও বিনিময় বজায় রাখতে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানাই।
চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, একতরফাবাদ ও সংরক্ষণবাদ মোকাবেলায় কোনো দেশই আজ নিরাপদ নয়। যদি বৈশ্বিক বাণিজ্য আবার জঙ্গলের আইনে ফিরে যায়—যেখানে শক্তিশালীরা দুর্বলদের শিকার করে—তবে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। চীন প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে ঐক্য ও সমন্বয় জোরদার করতে, একতরফা দমননীতির বিরুদ্ধে যৌথভাবে রুখে দাঁড়াতে এবং বৈশ্বিক ন্যায় ও ন্যায়বিচার রক্ষায় সহযোগিতা করতে।