মাদানী এভিনিউর ১০০ ফুট সড়কে ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ি ধুলা-জ্যামে নাজেহাল

রাজধানীর মাদানী এভিনিউর ফ্যামিলি বাজার এলাকার চা দোকানি মো. ওমর ফারুক। দোকানে মোড়কজাত বিস্কুট, কোমল পানীয় আর চা বিক্রি করেন।

আগে খোলা বান রুটি, কেক বিক্রি করতেন। সড়কের ধুলা এসে সব ময়লা করে দেয়ায় এখন শুধু মোড়কজাত খাবারই বিক্রি করেন তিনি। গতকাল দুপুরে কথা হয় ওমর ফারুকের সঙ্গে। তিনি জানান, বছর খানেক হলো রাস্তা খুঁড়ে রেখেছে সরকারি সংস্থা। রাস্তার বালি উড়ে দোকানের জিনিসপত্র ময়লা করে দেয়। ফলে এখন আর খোলা রুটি বিক্রি করা যাচ্ছে না। চা বিক্রিও কমে গেছে। ধুলার কারণে ক্রেতারা তেমন আসে না।

রাজধানীর নতুন বাজার মাদানী এভিনিউর ১০০ ফুট সড়ক থেকে শুরু হয়ে বালু নদের দিকে যাওয়া সড়কটিতে ‘ঢাকা এনভায়রনমেন্টলি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই’ প্রকল্পের অধীনে ঢাকা ওয়াসার উন্নয়নকাজ চলছে। রাস্তার খোঁড়াখুঁড়িতে সড়কটির এক পাশ কার্যত বন্ধ।

মঙ্গলবার দুপুরে সরজমিনে দেখা যায়, ভাটারা থানা থেকে শুরু হয়ে বসুন্ধরা ২ নম্বর গেট পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক ওয়াসা খোঁড়াখুঁড়ি করে ফেলে রেখেছে। এখানে কোথাও সড়ক পুরোটাই কাটা, কোথাও-বা রাস্তা ব্যবহার উপযোগী নয়। ফলে পাশের সড়ক ব্যবহার করছে যাতায়াতকারী গাড়ি ও পথচারীরা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছর আগস্টের পরই সড়কটি খুঁড়ে রেখেছে ওয়াসা। ফলে এ পথ কার্যত বন্ধ। ফ্যামিলি বাজার এলাকার দোকানদাররা জানান, গত রোজার ঈদে তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্রেতারা এ পাশের মার্কেটে কেনাকাটা করতে তেমন একটা ঢোকেনি। সামনে কোরবানির ঈদ। এর মধ্যে যদি সড়কটি ঠিক না হয় তাহলে এবারো ক্রেতা মিলবে না।

মাদানী এভিনিউ এলাকায় প্রায় দুই দশক ধরে রিকশা চালান মো. খালেদ হোসাইন। তিনি বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই রাস্তা কেটে ফেলে রেখেছে। এর আগেও এ সড়ক অনেকবার কাটা হয়েছে। কয়েক মাস পর পরই সড়কটি কেটে ফেলে রাখে। প্রচণ্ড ধুলার কারণে রাস্তায় চলতে কষ্ট হয়। সরকারের কাছে আমরা তো বেশি কিছু চাই না। শান্তিমতো রাস্তায় গাড়ি চালাব, সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চলবে—এটা নিশ্চিত করা দরকার।’

জানা যায়, ঢাকা ওয়াসার নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানার বিষনন্দী পয়েন্টে মেঘনা নদীর পশ্চিম তীরে গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার, যা নির্মাণ করা হয়েছে ঢাকা এনভায়রনমেন্টলি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পের আওতায়। প্রকল্পের মূল অবকাঠামো তথা ইনটেক পয়েন্ট, সঞ্চালন লাইনসহ সার্বিক কার্যক্রম শেষ হয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন ওয়াসা-সংশ্লিষ্টরা। মাদানী এভিনিউ ১০০ ফুট সড়কটির এক পাশ গভীর গর্ত করে প্রায় ছয় ফুটের দুটি পাইপ বসানো হচ্ছে। প্রকল্পটি আগামী জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। গতকাল ওয়াসার প্রতিনিধি দল সরজমিনে পরিদর্শন করে জানায়, ২৫ এপ্রিলের মধ্যে কাজ শেষ করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে ওয়াসার কারণে মাদানী এভিনিউ থেকে বালু নদ পর্যন্ত (মেজর রোড-৫) প্রশস্তকরণ এবং বালু থেকে শীতলক্ষ্যা পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প ধীরগতিতে চলছে বলে জানিয়েছেন রাজউক প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা। নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে রাজউকের প্রকৌশল বিভাগের একজন কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘২৫ এপ্রিলের মধ্যে ওয়াসার সব কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু আমাদের তো মনে হচ্ছে তাদের আরো সময় লাগবে। তারা পানির লাইন না বসানো পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নকাজ শুরু করা যাচ্ছে না। আমরা পেছনের সব কাজ শেষ করে ফেলেছি। এখন শুধু ফ্যামিলি বাজার থেকে ভাটারা থানা পর্যন্ত কাজ বাকি আছে। ওয়াসার গাফিলতির কারণেই কাজ এগিয়ে নিতে পারছি না।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌মাদানী এভিনিউর সড়কটিতে আসলেই জনভোগান্তি হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা আজও (গতকাল) মিটিং করেছি। আমাদের কাজ ২৫ এপ্রিলের মধ্যে শেষ করার কথা। আশা করছি যথাসময়েই কাজ শেষ করে রাজউককে হস্তান্তর করতে পারব।’

আরও