সংকটময় জাতীয় রাজনীতির দৃশ্যপটে শেখ হেলালের শক্তিশালী আগমন

আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক করে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। যদিও বিএনপিসহ বিরোধী একাধিক রাজনৈতিক দল এ তফসিল ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইছে বিরোধ মীমাংসায় সব দলের মধ্যে সংলাপ ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। এমনই এক দৃশ্যপটে আওয়ামী লীগের ও জাতীয় রাজনীতিতে শক্তিশালী আগমন ঘটেছে শেখ

আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক করে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। যদিও বিএনপিসহ বিরোধী একাধিক রাজনৈতিক দল এ তফসিল ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইছে বিরোধ মীমাংসায় সব দলের মধ্যে সংলাপ ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। এমনই এক দৃশ্যপটে আওয়ামী লীগের ও জাতীয় রাজনীতিতে শক্তিশালী আগমন ঘটেছে শেখ হেলাল উদ্দীন এমপির। 

সংসদে জনপ্রতিনিধিত্ব ছাড়া বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শেখ হেলাল উদ্দীনকে সরকার বা দলের শীর্ষ কোনো পদ-পদবি গ্রহণে কখনই তেমন একটা আগ্রহী হতে দেখা যায়নি। তবে বর্তমানে আওয়ামী লীগের জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে আরো সক্রিয় ও দৃশ্যমান উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে তার। নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও আড়াল থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তিনি। 

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের কর্মকাণ্ডে শেখ হেলালের উপস্থিতি এখন আরো দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। নির্বাচনী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশ সফর করছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ১৩ নভেম্বর খুলনার সার্কিট হাউজ মাঠে বিভাগীয় মহাসমাবেশে যোগ দেন তিনি। এর আগে গত ৪ নভেম্বর আরামবাগে ঢাকা বিভাগীয় মহাসমাবেশ, ২৮ অক্টোবর চট্টগ্রামের আনোয়ারার কেইপিজেড মাঠে চট্টগ্রাম বিভাগীয় মহাসমাবেশ, ২ আগস্ট রংপুর জিলা স্কুল মাঠে রংপুর বিভাগীয় মহাসমাবেশ এবং ১১ মার্চ ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠে বিভাগীয় মহাসমাবেশে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নির্বাচনকেন্দ্রিক দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। প্রতিটি সমাবেশে শেখ হাসিনার পাশেই ছিলেন শেখ হেলাল উদ্দীন। 

দলের শীর্ষ নেতারা বলছেন, সমাবেশগুলো আয়োজনে পেছন থেকে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা রেখেছেন শেখ হেলাল উদ্দীন এমপি। বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য হিসেবে সরকার ও দলীয় নেতাকর্মীরাও বেশ সমীহ করেন তাকে। দলীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও অনানুষ্ঠানিকভাবে নানা পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শেখ হেলাল সাহেব আওয়ামী পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ও নেতৃস্থানীয় মানুষ। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র ও আওয়ামী লীগ সভাপতির খুব কাছের। দলের প্রতি তার আনুগত্য প্রশ্নাতীত। সেই সঙ্গে তার আদর্শিক রাজনীতি সবার কাছেই প্রশংসনীয়। আওয়ামী লীগে তিনি বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। এ দলের জন্য তিনি একজন অপরিহার্য ব্যক্তি।’ 

বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই শেখ আবু নাসেরের বড় ছেলে শেখ হেলাল উদ্দীনকে বলা হচ্ছে এ মুহূর্তে দক্ষিণবঙ্গে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী নেতা। আওয়ামী লীগের হয়ে প্রথম জাতীয় সংসদে সদস্য নির্বাচিত হন ১৯৯৬ সালে। সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত জাতীয় সংসদে জনপ্রতিনিধিত্ব করছেন পাঁচবার। বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য বা দক্ষিণবঙ্গে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা হলেও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পদ-পদবি গ্রহণ কিংবা সরকারের পদস্থ কোনো জায়গা আসীন হতে বরাবরই অনীহা প্রকাশ করেছেন শেখ হেলাল। ক্ষমতার শীর্ষ পর্যায়ের কাছাকাছি হয়েও নিজেকে সব সময় আড়ালেই রেখেছেন তিনি।

রাজনীতিতে শেখ হেলাল উদ্দীনের অবস্থান প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন বলেন, ‘দলকে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্যতম এ সদস্য। পারিবারিকভাবেই উনি আওয়ামী লীগকে ধারণ করে রাজনীতি করছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চলার পথকে মসৃণ করতে উনি দেশব্যাপী নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।’ 

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের রাতে বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে শেখ আবু নাসেরও হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। সে সময় শেখ হেলাল ছিলেন ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের শিক্ষার্থী। পিতার অকালমৃত্যুতে তার পরিবার সে সময় বড় ধরনের বিপদে পড়ে যায়। ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন শেখ হাসিনা। সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের একজন শেখ হেলাল। 

খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রেম কুমার মণ্ডল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী দেশে আগমনের পর থেকেই পুরো দেশে তার সফরসঙ্গী ছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ এ রাজনীতিবিদ। কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার সেই কার্যক্রম এখনো ধরে রেখেছেন তিনি।’

শেখ হেলালের পরিবারের অন্যান্য সদস্যও এখন দক্ষিণবঙ্গের রাজনীতিতে সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ছাড়াও তার ভাই শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল ও ছেলে শেখ সারহান নাসের তন্ময় এমপি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। 

খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌শেখ হেলাল উদ্দীন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আমরা যারা আছি, সবাইকে এক করে রেখেছেন। আমরা উনাকে অভিভাবক হিসেবে মনে করি। তার কারণেই আমাদের খুলনা সন্ত্রাসমুক্ত হয়েছে। খুলনার সাম্প্রতিক বিশাল জনসভাটি সফল করতেও তিনি নিরলসভাবে কাজ করেছেন। ওই সমাবেশ সফল করার অন্যতম প্রধান কারিগর তিনি। আমরা উনার সঙ্গে থেকে দায়িত্ব পালন করেছি মাত্র।’

আরও