স্কুলে ঢুকে প্রধান শিক্ষককে পেটালেন কাউন্সিলর, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

বিষয়টি সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেলে কাউন্সিলর আশাকে ওসব সামগ্রী দ্রুত সরিয়ে নিতে বলেছি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সে কয়েকজন লোকজন নিয়ে সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে প্রবেশ করেন তাকে সরকারী উন্নয়ন কাজে বাধা সৃষ্টিকারী বলে গালাগালি করেন। এক পর্যায়ে তাকে মারধোর করেন এবং অফিসের আসবাবপত্র ভাংচুর করে।

কুষ্টিয়া শহরের লাহিনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে পেটানোরা অভিযোগ উঠেছে কুষ্টিয়া পৌরসভার ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আসাদুর রহমান আশার বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ের মাঠে ইট,বালি খোয়াসহ নির্মাণ সামগ্রী রাখতে না দেয়ায় কাউন্সিলর প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামকে বেধড়ক মারপিট করেছেন বলে জানায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। আজ  বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার সময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। 

পরে কাউন্সিলর আশাসহ তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা এ বিক্ষোভ দেখায়। 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়ক সংলগ্ন লাহিনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে পৌরসভার চলমান সিডিসির রাস্তা নির্মাণ চলছে।কাউন্সিলর আশা নির্মাণ কাজে ব্যবহারের জন্য ইট,বালু,খোয়া রেখে দীর্ঘ দিন ধরে নোংরা করে রেখেছে। বিদ্যালয় থেকে ক্লাস চলাকালীন জোরপূর্বক কাউন্সিলর আশা রাস্তার কাজের জন্য পাইপে করে পানি নেয়া, বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যবহার করছিল। এর ফলে ক্লাসে বিঘ্নসহ শিক্ষার্থীদের চরম অসুবিধা সৃষ্টি হয়ে আসছিল। 

প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেলে কাউন্সিলর আশাকে ওসব সামগ্রী দ্রুত সরিয়ে নিতে বলেছি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সে কয়েকজন লোকজন নিয়ে সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে প্রবেশ করেন তাকে সরকারী উন্নয়ন কাজে বাধা সৃষ্টিকারী বলে গালাগালি করেন। এক পর্যায়ে তাকে মারধোর করেন এবং অফিসের আসবাবপত্র ভাংচুর করে। 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে এভাবে হেনস্তার ঘটনায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। তারা বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখায় এবং কাউন্সিলরের লোকজনসহ তাকে গ্রেফতারের দাবি করে।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও কুষ্টিয়া পৌরসভার বর্তমান প্যানেল মেয়র মতিয়ার রহমান মজনু জানান, অনুমতি না নিয়ে কাউন্সিলর আশা বিদ্যালয়ের মধ্যে সিডিসির রাস্তা নির্মাণের সামগ্রী রেখে পরিবেশ নষ্ট করেছে এবং জোরপূর্বক বিদ্যালয়ের মোটর থেকে পাইপ দিয়ে পানি নেয়া, বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আসছিলো। ক্লাস চলাকালীন সময়ে খোয়া ভাঙ্গা,বালু ফেলাসহ শব্দ দূষণের কাজ করার সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিষেধ করলে তার ওপর হামলা চালিয়ে অফিস কক্ষের আসবাবপত্র ভাংচুর করেছে। এটা জঘন্যতম অপরাধ।তার বিচার হওয়া উচিত। 

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সাব্বিরুল আলম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি নিয়ে তদন্তের পর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

পৌর কাউন্সিলর আসাদুর রহমান আশার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আলাপ করেই তিনি নির্মাণ সামগ্রী রেখেছিলেন। কিন্তু “এখন তিনি উল্টো কথা বলছেন।


আরও