কুষ্টিয়া সীমান্তের শূন্যরেখায় তিনদিন ধরে অবস্থান করছেন ১২ জন, নতুন করে পুশইনের অভিযোগ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় তিনদিন ধরে অবস্থানরত নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জনের মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অবস্থানের কারণে তাদের অধিকাংশই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে আড়াই বছরের এক শিশু উচ্চ জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, অসুস্থদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে। আড়াই বছরের শিশু সামাদের পাশাপাশি আরো তিন শিশু সর্দি, কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত। বড়দের মধ্যেও ঠান্ডা, কাশি ও শারীরিক দুর্বলতার উপসর্গ দেখা দিয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে গোসলের সুযোগ না পাওয়া, মশার উপদ্রব এবং প্রচণ্ড গরমে পাটক্ষেতে অবস্থানের কারণে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে।

বিজিবির নজরদারির মধ্যে মানবিক বিবেচনায় সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা তাদের জন্য শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। স্থানীয় চিকিৎসক শহিদুল ইসলাম জানান, কয়েকজন শিশু জ্বর ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় ভুগছে। আক্রান্তদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেয়া হয়েছে।

এদিকে শূন্যরেখায় অবস্থানরত ১২ জনকে ঘিরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠার মধ্যেই নতুন করে আরো তিনটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে পুশইনের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে চর বিলগাতুয়া সীমান্ত দিয়ে চারজন এবং জয়পুর সীমান্ত দিয়ে আরো আটজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। এছাড়া রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চল্লিশপাড়া সীমান্ত দিয়ে শাহাবুদ্দিন (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা হলে বিজিবি তাকে ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠায় বলে জানা গেছে।

বিজিবি সূত্র জানায়, গত ১২ জুন ভোরে বিএসএফ নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। বিষয়টির সমাধানে সেদিন বিকালে পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেয়া হলেও বিএসএফের অসহযোগিতার কারণে তা অনুষ্ঠিত হয়নি।

পরদিন ১৩ জুন বিলগাতুয়া সীমান্তের ১৫০/৩-এস পিলার এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবির পক্ষে কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবির উপ-অধিনায়ক নুরুল হুদার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল এবং বিএসএফের পক্ষে রানীনগর কোম্পানি কমান্ডার এসি সুনিল কুমার ইয়াদবের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।

তবে বৈঠকে বিএসএফ পুশইনের অভিযোগ অস্বীকার করে এবং শূন্যরেখায় অবস্থানরত ব্যক্তিদের নিজেদের হেফাজতে নিতে রাজি হয়নি। এ অবস্থায় বিজিবি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানালে বিএসএফ বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাতে সময় চায়। ফলে এখনো কোনো সমাধান না হওয়ায় ১২ জন ব্যক্তি শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।

বিজিবি সূত্রের দাবি, সম্প্রতি প্রায় প্রতি রাতেই নতুন করে পুশইনের চেষ্টা হচ্ছে। তবে সীমান্তে কঠোর টহল ও স্থানীয়দের সতর্কতার কারণে এসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে।

কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়েছে। বিএসএফ অভিযোগ অস্বীকার করে তদন্তের জন্য সময় চেয়েছে। বর্তমানে ওই ১২ জন শূন্যরেখার প্রায় ৫০ মিটার ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন।

তিনি বলেন, সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও