মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রত্যাবাসন

প্রবাসে ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিতদের বিমানবন্দরেই গ্রেফতার

কভিড-১৯ সংকটের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে সাজাপ্রাপ্ত বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে নিয়ে আসার চাপে রয়েছে ঢাকা। দেশে ফিরিয়ে আনার পর ফৌজদারি অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত এ বাংলাদেশীদের বিমানবন্দরেই গ্রেফতার করা হবে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

কভিড-১৯ সংকটের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে সাজাপ্রাপ্ত বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে নিয়ে আসার চাপে রয়েছে ঢাকা। দেশে ফিরিয়ে আনার পর ফৌজদারি অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত এ বাংলাদেশীদের বিমানবন্দরেই গ্রেফতার করা হবে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, গত বছর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় অবৈধভাবে বসবাসরত ও সাজাপ্রাপ্ত বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনার চাপে রয়েছে বাংলাদেশ। অবৈধ ও সাজাপ্রাপ্ত বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনা না হলে প্রবাসে তাদের অসুবিধায় ফেলার হুমকিও দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সংশ্লিষ্ট দেশগুলো। এ নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠকও হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে আরো জানা গেছে, চলমান কভিড-১৯ সংকটকালে এসব বাংলাদেশীকে ফিরিয়ে নিয়ে আসার পর তাদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করাসহ একেক ধরনের প্রবাসীর জন্য একেক ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যে-ই আসুক না কেন, তাকে অবশ্যই ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

বুধবার রাতে ৩৬৬ বাংলাদেশীকে ফেরত পাঠায় সৌদি আরব। এর মধ্যে ১৩২ জন সেখানে ওমরা পালন করতে গিয়ে করোনা সংকটের কারণে আটকা পড়েছিলেন। বাকি ২৩৪ জন আটক ছিলেন বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে। এর মধ্যে কারো আকামার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। বৈধ কাজগপত্র নেই কয়েকজনের। আবার সেখানে অবৈধভাবে গমনকৃত বাংলাদেশীও রয়েছেন এর মধ্যে। এদের ক্ষেত্রে সরকার ঘোষিত নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে দেয়াসহ প্রবাসে কভিড-১৯-এ আক্রান্ত মৃত ব্যক্তিদের পরিবারকে ৩ লাখ টাকা করে অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বিদেশফেরত প্রবাসীদের মধ্যে বাছাইকৃত ব্যক্তিদের ব্যবসার জন্য ৫-৭ লাখ টাকা ঋণ দেয়ারও ঘোষণা রয়েছে। তবে সংক্রমণের সময়ে ফেরত আসা সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সাজাপ্রাপ্ত আসামি স্থানান্তর চুক্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সাজাপ্রাপ্ত আসামি স্থানান্তরের চুক্তি রয়েছে। সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশগুলোয় ফৌজদারি অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের প্রত্যাবাসনের সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে দণ্ড অনুযায়ী প্রবাসের কারাগারে সাজার একাংশ কাটানোর পর বাকিটা দেশের কারাগারে ভোগ করতে হবে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. শহিদুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, এখনো কোনো সাজাপ্রাপ্ত প্রবাসীকে পাঠানো হয়নি। এ নিয়ে আলোচনা চলছে। ইরাক সাজাপ্রাপ্ত বাংলাদেশীদের পাঠাতে চেয়েছে। এ নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করে আমাদের পূর্ণ তালিকা দেবে। তারপর আমরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে তালিকা চেয়েছে। এ তালিকা ধরে যাচাই-বাছাইয়ের পর তাদের আনা হবে।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে কোন কোন দেশের বন্দি বিনিময় চুক্তি রয়েছে, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানান মো. শহিদুজ্জামান। তিনি বলেন, যাদের সঙ্গে যে ধরনের চুক্তি রয়েছে, সেই মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়গুলো এত দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয়। এগুলো যাচাই-বাছাই করতে হবে। প্রবাসীরা যে শুধু সে দেশেই অপরাধ করেছেন, বিষয়টা এমন নয়। অনেক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অপরাধীও থাকতে পারেন। ফলে পুলিশের বিশেষ শাখায় এটি যাচাই-বাছাইয়ের পর সিদ্ধান্ত হবে। সৌদি আরব থেকে যারা এরই মধ্যে এসেছেন, তাদের মধ্যে ওমরাহে গিয়ে আটকা পড়ার পাশাপাশি ডিপোর্টেশন সেন্টার থেকে আসা বাংলাদেশীরাও রয়েছেন। কোনো অপরাধী এর মধ্যে ছিলেন না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাইয়ের পর সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের প্রত্যাবাসন করা হলে সংশ্লিষ্ট চুক্তির ভিত্তিতে তাদের বিমানবন্দরেই গ্রেফতার করা হবে। তাদের ক্ষেত্রেও ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা হবে। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন শেষ হওয়ার পর তাদের বাকি সাজা ভোগ করার জন্য কারাগারে পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, এটি হবে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির ভিত্তিতে। ফলে এটিকে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ যেসব দেশ বাংলাদেশের কাছে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হস্তান্তর করতে চায়, তাদের কাছে পূর্ণাঙ্গ তালিকা চাওয়া হয়েছে। সে তালিকা যাচাই-বাছাই করে এসব অপরাধীকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। তবে অপরাধীদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য এখনো কোনো আলাদা ব্যবস্থা করা হয়নি। সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

আরও