বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে চলছে কমপ্লিট শাটডাউন। এমনকি শিক্ষকরা প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করে আন্দোলন বেগবান করছেন। সোমবার (১১ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস কক্ষে তালা মেরে দেন। এর আগে তাদের অফিস কক্ষ থেকে বের করে দেয়া হয়। শিক্ষকদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও।
সকাল থেকে দাবি আদায়ে আন্দোলনরত শিক্ষকরা প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় অবস্থান নেন। পরে তারা বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে কার্যক্রম বন্ধ রাখার অনুরোধ জানান। কর্মরতদের তাদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান করেন। পরে শিক্ষকদের একটি টিম প্রতিটি কক্ষে গিয়ে তালা মেরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের করে দেন।
আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলেন, শিক্ষকদের দাবি ও চলমান আন্দোলনের মধ্যে পদোন্নতি-সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানে গত ৩০ এপ্রিল উপাচার্য, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দাবি মেনে নেয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
কিন্তু গত শনিবার সিন্ডিকেট সভা হলেও তার কোনো সমাধান হয়নি। এর প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষকরা সভা করে কমপ্লিট শাটডাউনের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং প্রশাসনিক কাজ থেকে শিক্ষকদের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত হয়।
এর আগে গত ২১ এপ্রিল থেকে শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে এ আন্দোলন শুরু হয়। শিক্ষকেরা প্রথমে কর্মবিরতি, শাটডাউন এবং সর্বশেষ ২৮ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয় অচল হয়ে যায়।
ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, শিক্ষকদের এ আন্দোলনের কারণে তারা লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়ছেন। সেশনজট আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত পথে এগোবে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করে শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষা সচলের দাবি জানান তারা।
রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে তালা দেয়ার বিষয়ে মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাইউম বলেন, ‘আমাদের নির্দেশনায় প্রশাসনিক দপ্তরগুলোতে তালা ঝোলানো হয়েছে।’ তালা ঝোলানোর সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কয়েকজন কর্মচারী বলেন, ‘শিক্ষকদের নির্দেশনাতেই আমরা তালা ঝুলিয়েছি।’
দপ্তরের তালা দেয়া ও শিক্ষকদের চাপের বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি দপ্তরের প্রধান বলেন, ‘এভাবে তারা এটা করতে পারেন না। আমাদের অফিসে এসে জোরপূর্বক বের করে দিয়ে তালাবদ্ধ করে দিচ্ছেন। তাদের আন্দোলন সফল হোক, সেটা আমরাও চাই। কিন্তু এভাবে জোরপূর্বক কিছু আমরা চাই না।’
আন্দোলনকারী শিক্ষক, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. ধীমান কুমার রায় বলেন, ‘আমরা উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। তাকে আমরা প্রশাসনিকভাবে কোনো সহযোগিতা করব না। বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকরা পদত্যাগ করছেন। এরই মধ্যে তিনজন পদত্যাগ করেছেন। পদোন্নতি বোর্ড বসানোর ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও উপাচার্য বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছেন। তাই আমরা আর তাকে প্রশাসনিক সহযোগিতা করব না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম জানিয়েছেন, সিন্ডিকেটের সভা ইতিবাচক হয়েছে। তারপরও তারা আন্দোলন ডাক দিয়েছেন। শিক্ষকদের আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসার আহ্বান জানান তিনি।