মানবতাবিরোধী অপরাধে মাহবুব উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

হানিফসহ মামলার চার আসামিই পলাতক। রায়ে তাদের অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এসব সম্পত্তি জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেয়ার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ এ রায় এসেছে।

একই মামলার অন্য তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তারা হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী এবং কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

হানিফসহ মামলার চার আসামিই পলাতক। রায়ে তাদের অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এসব সম্পত্তি জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেয়ার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

রায় ঘোষণার সময় চার আসামিই পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এতে নিহত হন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম ও সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন ও উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। এ ঘটনায় আরো অনেকে আহত হন।

গত বছরের ২৫ মার্চ এই মামলার তদন্ত শুরু হয়েছিল। একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত সংস্থা। পরে ট্রাইব্যুনালে ৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ২ নভেম্বর এই মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এর পর ৮ ডিসেম্বর এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

আরও