গতকাল সার্ক মহাসচিব মো. গোলাম সারওয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এ আশ্বাস দেয়া হয় বলে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্ক সনদে অন্তর্ভুক্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌম সমতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, একে অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতা নীতিমালার প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারণাটি প্রথম বাংলাদেশই উত্থাপন করে। ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যার লক্ষ্য ছিল জনগণের কল্যাণ সাধন, জীবনমান উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সমষ্টিগত আত্মনির্ভরশীলতা জোরদার করা।
সার্কের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশ হিসেবে ১৯৮৫ সালের ডিসেম্বরে প্রথম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক হিসেবে পরে ১৯৯৩ ও ২০০৫ সালেও এ সম্মেলনের আয়োজক বাংলাদেশ। আঞ্চলিক অভিন্ন মূল্যবোধ জোরদার ও বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, দারিদ্র্য বিমোচন, বিদ্যুৎ, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্যনিরাপত্তা, শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বৃদ্ধিতে সার্কের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সম্পর্ক উন্নয়নে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত: ঢাকা ও আবুধাবি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রম গতিশীলতা এবং উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগের ওপর নতুন করে জোর দিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে একটি ব্যাপক কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলি আল হামুদি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং ক্রমবর্ধমান কৌশলগত অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে উভয় পক্ষ। এ সময় দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয় বলে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শুভেচ্ছার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আওতায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে একটি ব্যাপক কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে উন্নীত করার জন্য বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
আলোচনায় প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (সিইপিএ) বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নেয়া এবং বাণিজ্য, জ্বালানি, অবকাঠামো ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) প্রকল্পে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর আলোকপাত করা হয়।
প্রায় ১২ লাখ বাংলাদেশী প্রবাসীকে দেশে কাজের সুযোগ দেয়ার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারকে ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় বিজনেস ও ট্রানজিট ভিসাসহ যাতায়াত আরো সহজ করার পাশাপাশি শ্রম ভিসা পুনরায় চালুর অনুরোধ জানান তিনি।
প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক চুক্তির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিতে কাজ করবে জাপান: রাষ্ট্রদূত
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে করা বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা-সংক্রান্ত চুক্তির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিতে কাজ করবে জাপান। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন ঢাকায় জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি।
জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে কথা হয়েছে। জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দুই দেশের সম্পর্কের কৌশলগত অংশীদারত্ব পুনর্ব্যক্তের বিষয়টিসহ অবাধ ও মুক্ত ভারত প্রশান্ত মহাসাগরের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া দুটি চুক্তি—একটি হলো অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি, অন্যটি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি। দুই পক্ষই এ চুক্তিগুলোর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিতে কাজ করার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছে।’