ইউক্রেনের অলিভিয়া বন্দর থেকে মালদোভা হয়ে দেশে ফিরবেন বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজের নাবিকরা। এ লক্ষ্যে তাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে পূর্ব ইউরোপের স্থলবেষ্টিত দেশটিতে। নাবিকরা দেশে ফিরলেও তাদের সঙ্গে আসছে না জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. হাদিসুর রহমানের মরদেহ।
আজ শনিবার বণিক বার্তাকে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএমওএ) সভাপতি ক্যাপ্টেন মো. এনাম চৌধুরী।
ক্যাপ্টেন এনাম বলেন, অলিভিয়া বন্দরে আটকে পড়া বাংলাদেশী পতাকাবাহী জাহাজ বাংলার সমৃদ্ধির ২৮ নাবিককে দেশে ফেরাতে মালদোভায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আজ বাংলাদেশের সময় দুপুর ১২টার দিকে অলিভিয়া বন্দর থেকে মালদোভায় সড়ক পথে তারা রওনা দিয়েছেন। এ যাত্রায় নিহত নাবিক হাদিসুর রহমানের মরদেহ নিয়ে আসা হচ্ছে না।
বিএমএমওএ সভাপতি জানান, গত বৃহস্পতিবার বাংলার সমৃদ্ধির নাবিকদের জাহাজ থেকে সরিয়ে শেল্টার হোমে রাখা হয়। তিনদিন বাংকারে রাখার পর আজ ইউক্রেনে বসবাসরত বাংলাদেশী প্রবাসীদের একটি সংস্থার সাহায্যে বাসের মাধ্যমে অলিভিয়া পোর্ট থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে মালদোভার পথে যাত্রা শুরু করেন নাবিকরা। ইউক্রেন থেকে মালদোভা যাত্রার পথে একটি ব্রিজ সম্পূর্ণ ধংস হয়ে গেছে। যে কারণে নাবিকদের বিকল্প পথে মালদোভা নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এনাম বলেন, ইউক্রেনে রুশ হামলা ক্রমাগত বাড়ছে। তাই আমরা বেশি ঝুঁকি নিতে চাচ্ছি না। ফলে আজই রওনা দিতে হয়েছে। নাবিকরা কোন পথে রওনা হয়েছেন, তা আমরা বলতে পারছি না। সড়ক পথে প্রতিবন্ধকতা অনেক। তাদের যাত্রার আগে অগ্রবর্তী একটি রেকি টিম গেছে। তাদের সবুজ সংকেত পেয়েই যাত্রা আরম্ভ হয়। যদি মালদোভা যেতে সমস্যা হয় তাহলে ৮০০ কিলেমিটার দুরে রোমানিয়া কিংবা সাড়ে ১৪০০ কিলোমিটার দুরে পোল্যান্ডে নাবিকদের নিয়ে যাওয়া হবে। সমস্যা হলে বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া হবে। মালদোভা, রোমানিয়া কিংবা পোল্যান্ডে পৌঁছালে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনাতে কোনো সমস্যা হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিহত হাদিসুরের মরদেহ দেশে আনার ব্যাপারে বিএমএমওএ’র সভাপতি এনাম চৌধুরী বলেন, আপাতত আনা সম্ভব হচ্ছে না। তার মরদেহ বাংকারে ফ্রিজারে রাখা হয়েছে। ২৮ নাবিক-ক্রু নিরাপদে ফিরে আসলে এরপর হাদিসুরের মরদেহ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
সিরামিকের কাঁচামাল ক্লে পরিবহনের জন্য বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজ তুরস্ক থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরের জলসীমায় পৌঁছায়। তবে, সেময়ে অলিভিয়া বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করায় জাহাজটি ইউক্রেনের জলসীমা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। গত ২ মার্চ রুশ হামলার শিকার হয় বাংলার সমৃদ্ধি। এ সময় জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. হাদিসুর রহমান (৩৩) নিহত হন। অলভিয়া বন্দর চ্যানেলে নোঙর করা জাহাজটিতে ২৯ জন বাংলাদেশি নাবিক ছিলেন।