নভেল করোনাভাইরাসের আরো নতুন একটি ধরন ছড়িয়ে পড়ায় যুক্তরাজ্যে ভ্রমণের ওপর এরই মধ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ। যদিও বাংলাদেশ এখনো দেশটির সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ চালু রেখেছে। গতকালও লন্ডন থেকে ২০২ যাত্রী নিয়ে সিলেটে এসে অবতরণ করেছে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট। এভাবে যুক্তরাজ্য থেকে যাত্রী আসা অব্যাহত থাকায় দেশে করোনার নতুন ধরন (স্ট্রেইন) ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় আপাতত দেশটির সঙ্গে ফ্লাইট চলাচল আপাতত বন্ধ রাখারও দাবি উঠেছে।
সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গতকাল লন্ডন থেকে আসা ফ্লাইটটির ২০২ যাত্রীর মধ্যে ১৬৫ জনই সিলেটের বাসিন্দা। এছাড়া যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের মধ্যেও অধিকাংশই সিলেটের বাসিন্দা। এ কারণে বর্তমানে সিলেট অঞ্চলে করোনার নতুন স্ট্রেইনের সংক্রমণ ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের উপপরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় মনে করছেন, করোনার নতুন স্ট্রেইনের সংক্রমণ ঠেকাতে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে উড়োজাহাজ চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা উচিত। তিনি বলেন, এটি সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে আমি মনে করি কিছুদিন যোগাযোগ বন্ধ রাখা উচিত। কারণ নতুন ধরন সম্পর্কে আমরা এখনো তেমন কিছুই জানি না। এটি ছড়িয়ে পড়লে সামাল দেয়া কঠিন হবে।
ওসমানী বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি সপ্তাহে বাংলাদেশ বিমানের দুটি ফ্লাইট লন্ডন থেকে সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এছাড়া প্রতি বুধবার একটি ফ্লাইট সিলেট থেকে লন্ডন যায়। চলতি মাসে এ পর্যন্ত ছয়টি ফ্লাইটে ১ হাজার ৫৭ যাত্রী যুক্তরাজ্য থেকে সিলেট এসেছেন।
গতকাল সকাল ৯টা ১০ মিনিটে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি ২০২ ফ্লাইট ওসমানী বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সিলেটের ১৬৫ যাত্রীকে নামিয়ে বাকি ৩৭ যাত্রীকে নিয়ে ১০টা ১০ মিনিটে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয় উড়োজাহাজটি।
করোনার নতুন ধরন নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে লন্ডন থেকে ফ্লাইট আসা প্রসঙ্গে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদ বলেন, করোনা নেগেটিভ সনদ ছাড়া এখন কাউকেই উড়োজাহাজে উঠতে দেয়া হয় না। আবার দেশে আসার পরও বিমানবন্দরে মেডিকেল টিম সব যাত্রীর করোনা সনদ পরীক্ষা করে। ফলে করোনা নেগেটিভ সনদ ছাড়া কারোরই দেশে আসার সুযোগ নেই।
সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল বলেন, যুক্তরাজ্য থেকে আসা ফ্লাইটের ওপর আমরা বিশেষ নজর রাখছি। করোনা নেগেটিভ সনদ ছাড়া কোনো যাত্রী সিলেটে এলে তাদের সেনাবাহিনীর মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে।
ওসমানী বিমানবন্দরে আসা বিদেশযাত্রীদের পরীক্ষার জন্য গঠিত মেডিকেল টিমের সমন্বয়কের দায়িত্বে আছেন সিলেট সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সিরাজুম মুনির। তিনি বলেন, আজ (গতকাল) যুক্তরাজ্য থেকে আসা যাত্রীদের সবারই করোনা নেগেটিভ সনদ রয়েছে। আমরা তাদের সবাইকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দিয়েছি।
সিরাজুম মুনির বলেন, হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার কথা বললেও অনেকে তা মানেন না। এতে করোনা ছড়ানোর ঝুঁকি থেকে যায়। প্রথমবারও প্রবাসীদের মাধ্যমেই সিলেটে করোনা ছড়িয়েছিল। সবকিছু বিবেচনায় আপাতত যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ফ্লাইট বন্ধ করাই ভালো।
এদিকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলীও জানিয়েছেন, প্রয়োজনে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়া হবে। গতকাল দুপুরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা মহড়ায় অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা জানান। যুক্তরাজ্যের সব ফ্লাইট বিশেষ নজরদারিতে আছে বলেও এ সময় জানিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাজ্যে এখন অধিক সংক্রামক আরো নতুন ধরনের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে দেশটিতে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যে ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।