ঈদুল ফিতরের আগে সিলেটের কোনো শপিংমল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলবে না। গতকাল দুপুরে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের বৈঠকে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ বৈঠকে সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েব, সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সহসভাপতি শফিউল আলম নাদেলসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাও অংশ নেন।
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক ব্যবসায়ী নেতা জানান, করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ১০ মে থেকে সিলেটের কোনো শপিংমল, মার্কেট ও ফ্যাশন হাউজ না খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঈদের আগে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান না খোলার ব্যাপারেও সবাই একমত পোষণ করেছেন।
সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েব বলেন, সিলেটের ব্যবসায়ীদের সিদ্ধান্ত সরকারের প্রতিও একটা বড় বার্তা। আমরা আগে চাই নিরাপত্তা, পরে ব্যবসা। আমরা চাই—আগে জীবন, পরে জীবিকা।
তিনি বলেন, কেবল পোশাকের দোকান নয়, নিত্যপণ্য ছাড়া সব ধরনের দোকানপাট ও বিপণিবিতান ঈদ পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এ সময়ে যাতে ফুটপাতে কেউ ব্যবসা করতে না পারে, সে ব্যাপারেও সিটি করপোরেশনকে সতর্ক থাকতে হবে।
ব্যবসায়ীদের এ সিদ্ধান্তকে অভূতপূর্ব উল্লেখ করে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আবারো প্রমাণ হয়েছে সিলেটের ব্যবসায়ীরা ব্যবসার চেয়ে মানুষের জীবনের নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেন এবং জাতীয় দুর্যোগে তারা সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তিনি বলেন, এখন যেভাবে চলছে, নিত্যপণ্য ছাড়া সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ, ঈদ পর্যন্ত একইভাবে সবকিছু বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ১০ মে (আগামীকাল) থেকে দোকানপাট ও শপিংমল খোলার অনুমতি দিয়েছে সরকার। বেশ কয়েকটি শর্ত মেনে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত শপিংমল খোলা রাখা যাবে। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার সিলেট নগরীর নয়াসড়কে বৈঠকে বসেন ব্যবসায়ী নেতারা। ওই বৈঠকে নয়াসড়ক এলাকার কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান না খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।