বিদেশে দক্ষ শ্রমিক প্রেরণ ও দেশের শ্রমবাজারের চাহিদা মেটাতে তরুণদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য সারা দেশে উপজেলা পর্যায়ে আরো ৫০ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। স্বল্প ও অর্ধশিক্ষিত তরুণদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ব্যয় করা হবে ৩ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা। এ বছর শুরু হয়ে ২০২৮ সালের মার্চের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে জনশক্তি ও কর্মসংস্থান ব্যুরো। আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় প্রকল্প উত্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি ভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৮২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। সরকারের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আলোকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে টিটিসি নির্মাণের কথা রয়েছে, যার মাধ্যমে ১ কোটি ১৩ লাখ তরুণের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। বিএমইটির তথ্যমতে, এখন দেশে ১১০টি টিটিসি চলমান রয়েছে। এর সঙ্গে নতুন করে আরো ৫০টি যুক্ত হতে যাচ্ছে। তবে এসব টিটিসির জন্য নতুন কোনো সিলেবাস তৈরি হবে না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্পটির মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ায় প্রকল্প পাসের সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা কমিশন। তবে বিদ্যমান টিটিসিগুলোর মানোন্নয়ন না করে নতুন করে সেন্টার স্থাপন না করার সুপারিশ করেছিল সরকারের প্রকল্প মনিটরিংয়ের একমাত্র প্রতিষ্ঠান আইএমইডি। সম্প্রতি ২৭টি টিটিসি নিয়ে একটি প্রতিবেদন দেয় সংস্থাটি। এতে বলা হয়, প্রশিক্ষণের বিষয় যুগোপযোগী ও আধুনিক না হওয়া, ব্যবহারিকের সুযোগ না থাকা এবং প্রশিক্ষক সংকটসহ নানা জটিলতায় উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে এসব টিটিসি। প্রশিক্ষক সংকটে নিয়মিত ক্লাস না হওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। প্রশিক্ষণ নিয়েও দেশে-বিদেশে কাজ মিলছে না। তাই উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা। এ অবস্থায় সেন্টারগুলোর টিকে থাকাই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইএমইডির মূল্যায়ন প্রতিবেদন বলছে, প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশ-বিদেশে ৩০ শতাংশ প্রশিক্ষণার্থী কাজে যুক্ত হলেও ৭০ শতাংশই কাজ না পেয়ে হতাশায় নিমজ্জিত। আর প্রথম বছর কোর্সগুলোয় ভালো সারা পেলেও প্রত্যাশিত কাজ না পাওয়ায় ধীরে ধীরে তরুণদের আগ্রহ কমতে থাকে। এখন টিকে থাকার জন্য কিছু কিছু টিটিসি হলরুম ভাড়া দেয়া শুরু করেছে। বাকিদেরও একই পথ ধরার পরামর্শ দিচ্ছে আইএমইডি। তাই নতুন করে আর সেন্টার নির্মাণ না করে বিদ্যমানগুলো আধুনিকায়ন ও সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার সুপারিশ সংস্থাটির।
এ বিষয়ে বেসরকারি সংস্থা রামরুর প্রধান নির্বাহী ড. সিআর আবরার বলেন, ‘দেশী-বিদেশী বাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দিতে হবে। প্রশিক্ষণ শেষে চাকরি না পেলে কেন মানুষ প্রশিক্ষণ নেবে?’
দেশী-বিদেশী বাজারের চাহিদা নিরূপণ করা এখন সহজ বলে জানান ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘হাতে-কলমে ব্যবহারিক শিক্ষা না দিলে শুধু থিওরি পড়িয়ে কোনো লাভ হবে না। এতে শিক্ষার্থীরা কাজে হাত দেয়ার কোনো সাহসই পাবে না, কনফিডেন্স থাকবে না।’
এ বিষয়ে বিএমইটির প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনা শাখার পরিচালক প্রকৌশলী মো. আকরাম আলী বলেন, ‘নতুন টিটিসিগুলোয় চলমান সিলেবাসের আলোকেই প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। তবে নতুন কোনো বিষয় যুক্ত হলে সেক্ষেত্রে নতুন করে সিলেবাস করতে হবে। এখন ১১০টির মধ্যে ৯৪টি টিটিসিতে ৫০টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।’