এরই মধ্যে ফুলে ফুলে চারপাশে ছড়িয়েছে হলুদের আভা। বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক। এমনকি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে জেলা কৃষি বিভাগ।
চোখ যেদিকে যায়,
শুধুই হলুদের
সমারোহ। মৃদু বাতাসে
দোল খাচ্ছে
ফুলে ভরা
সরিষা গাছগুলো। ঘেরের
পাড়, পতিত
জমি ও
রাস্তার পাশে
চাষ করা
সরিষা গাছগুলোয়
অল্প সময়েই
ফুলে ফুলে
ভরে গেছে। এখন
শুধু অপেক্ষা
ফল আসার। সরকারি
প্রণোদনা ও
কৃষি বিভাগের
চেষ্টায় এবার
জেলায় ১
হাজার ২০০
হেক্টর জমিতে
সরিষা চাষ
হয়েছে। যেকোনো জমিতেই
সরিষা চাষ
করা যায়। তাই
সরিষা চাষে
ঝুঁকছেন চাষীরা। কৃষক
জানান, ঠিকমতো
ফসল ঘরে
তুলতে পারলে
অল্প সময়ে
স্বল্প খরচেই
বিঘাপ্রতি তাদের
লাভ হবে
২৫ হাজার
টাকার মতো।
বাগেরহাট সদরের রণভূমি
গ্রামের কৃষক
জাহাঙ্গীর সরদার
বলেন, ‘প্রথমবার ঘেরের
পাড়ে এক
বিঘা জমিতে
সরিষা চাষ
করেছি। মাত্র ছয়
হাজার টাকা
খরচে আশা
করি ৩০
হাজার টাকার
সরিষা বিক্রি
করতে পারব। আগামীতে
আরো বেশি
জমিতে সরিষা
চাষ করা
হবে।’ একই গ্রামের
শেখ ইব্রাহিম
নামে আরেক
কৃষক বলেন,
‘সবজি চাষ
শেষে জমি
পড়েই থাকে। তাই
এবার কৃষি
কর্মকর্তাদের সহায়তায়
সরিষার চাষ
করেছি। যেভাবে গাছে
ফুল ধরেছে
তাতে আশানুরূপ
ফলন পাব।’ সরিষা
থেকে যা
আয় হবে
সেটা বাড়তি
আয় বলে
জানান ওই
কৃষক।
বাগেরহাট সদরের ষাটগম্বুজ
ইউনিয়ন পরিষদের
উপসহকারী কৃষি
কর্মকর্তা গঙ্গামণি
পাল বলেন,
‘প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত
এক ইঞ্চি
জমিও অনাবাদি
থাকবে না—এ
নির্দেশনা মেনেই
আমরা চাষীদের
ডোর টু
ডোর গিয়ে
পতিত জমিতে
সরিষা চাষে
উদ্বুদ্ধ করেছি। প্রথমবারের
মতো ফলনও
ভালো হয়েছে।’
বাগেরহাট সদর উপজেলা
কৃষি কর্মকর্তা
সাদিয়া সুলতানা
বলেন, ‘সরিষার আবাদ
বাড়াতে ঘেরের
পাড়, পতিত
জমি ও
রাস্তার পাশে
তিনশ কৃষকের
মাঝে বারি-১৪ জাতের
এক কেজি
করে বীজ,
১ কেজি
ইউরিয়া ও
১০ কেজি
ডিএপি সার
বিনামূল্যে বিতরণ
করা হয়েছে। এছাড়া
বিভিন্ন প্রকল্পের
মাধ্যমে আরো
একশ কৃষক
সরিষা চাষ
করছেন। আশা করি
সদরের চার
শতাধিক সরিষা
চাষী ভালো
ফলনের মাধ্যমে
সফলতার মুখ
দেখবেন। সেই সঙ্গে
আগামীতে আবাদের
পরিমাণ আরো
বাড়বে বলে
আশা করা
যায়।’
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপপরিচালক মো. আজিজুর রহমান জানান, সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে তেল ফসলের আমদানিনির্ভরতা কমবে। বাগেরহাটে এ বছর ২ হাজাা ৯০০ চাষী সরিষা চাষ করেছেন। ১ হাজার ৪৪০ টন সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষক সাড়ে ৪ হাজার টাকা দরে প্রতি মণ সরিষা বিক্রি করতে পারবেন জানান তিনি।