ঠাকুরগাঁওয়ে কমিউনিটি ক্লিনিকে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা

চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে গড়ে তোলা হয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক।

চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে গড়ে তোলা হয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক। ঠাকুরগাঁও জেলার পাঁচটি উপজেলার মধ্যে চারটিই ভারতীয় সীমান্তবর্তী। শহরের সঙ্গে এসব উপজেলার মানুষের তেমন একটা যোগাযোগ নেই। এসব অঞ্চলে কমিউনিটি ক্লিনিক থাকলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না রোগীরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গ্রাম পর্যায়ে শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সব ধরনের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান রয়েছে ঠাকুরগাঁও জেলা শহরে। গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হলেও সেবা পাচ্ছে না তারা। সেবা গ্রহণকারীদের জন্য ৩২ ধরনের ওষুধ দেয়ার কথা থাকলে মাত্র পাঁচ-ছয় ধরনের ওষুধ দেয়া হয়। এছাড়া পুষ্টিসংক্রান্ত পরামর্শ, প্রসব-পূর্ব, প্রসবকালীন এবং প্রসব-উত্তর সেবার নিয়ম থাকলেও তোয়াক্কা করেন না দায়িত্বরত কর্মকর্তারা।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, জেলার পাঁচটি উপজেলায় ১৪৮টি ইউনিয়ন কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। তিনটি কমিউনিটি ক্লিনিক ব্যতীত সবগুলোয় রয়েছে পর্যাপ্ত জনবল। আর প্রয়োজন অনুসারে সবগুলোতে দেয়া হয় ২৮ প্রকার ওষুধ।

সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের লস্করা কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা নিতে যান আয়েশা বেগম। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি সকাল থেকে হাসপাতাল খুলে ওষুধপত্র দেয়া হবে। অথচ সাড়ে ১০টা বা ১১টার আগে হাসপাতাল খোলে না। আবার খোলার পর প্যারাসিটামল আর আয়োডিনের ক্যাপসুল ছাড়া আর কিছু দেয় না। যদি আরো চাওয়া হয়, তাহলে ধমক দেন কর্মকর্তারা।’

জেলার কয়েকটি উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিক ঘুরে দেখা গেছে, সেবা গ্রহণকারীদের জন্য ৩২ ধরনের ওষুধ দেয়ার কথা থাকলে দেয়া হচ্ছে পাঁচ-ছয় ধরনের ওষুধ। কয়েকটি রোগের দু-এক প্রকার ওষুধের বাইরে আলাদা কোনো ওষুধ দেয়া হয় না। এছাড়া ওষুধের পাশাপাশি স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, স্যানিটেশন এবং পুষ্টিসংক্রান্ত পরামর্শ, সার্বিক প্রজনন স্বাস্থ্য পরিচর্যার আওতায় প্রসব-পূর্ব (প্রতিরোধ টিকা দানসহ), প্রসবকালীন এবং প্রসব-উত্তর সেবা দেয়ার নিয়ম থাকলেও সেগুলোর কোনো তোয়াক্কা করেন না দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। সময়মতো যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিং কাঁশি, পোলিও, ধনুষ্টংকার, হাম, হেপাটাইটিস-বি, নিউমোনিয়া ইত্যাদিসহ নানা প্রতিষেধক টিকা দেয়ার কথা থাকলেও তা মিলছে না কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোয়।

শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহে ছয়দিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত সেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকারও কথা। অথচ বেলা ১১টার আগে খোলা হয় না ক্লিনিকের তালা। ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টার বেশি সময় সচল থাকে না কমিউনিটি ক্লিনিক। কোনো কিছু জানতে চাইলে বা প্রশ্ন করে বসলে ওষুধ দেয়া হয় না আগত সেবা গ্রহণকারীদের।

জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার রাতোর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল গফুর বলেন, ‘সরকার আমাদের হাতের নাগালে সেবা দেয়ার জন্য ক্লিনিকগুলো করেছে। অথচ ক্লিনিকের কর্মকর্তারা নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো চলার কারণে আমরা সেবা পাচ্ছি না। কোনো দিন ওষুধ থাকে না। আবার কোনো দিন কর্মকর্তাদের পাওয়া যায় না। একেক দিন একেক রকম সমস্যা থাকে তাদের।

পীরগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ আলী বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়নে শুধু ভবন আছে। কিন্তু কোনো কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়নি। এ কারণে আমরা কোনো ধরনের স্বাস্থ্যসেবা ক্লিনিক থেকে পাচ্ছি না। এটি দ্রুত সমাধান করা হলে প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে।’

এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও জেলা সিভিল সার্জন ডা. নূর নেওয়াজ আহমদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গত মাসে জেলায় প্রায় দেড় শতাধিক স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর জন্য জনবল সংকট হওয়ার আর সুযোগ নেই। এছাড়া প্রতি মাসে আমরা ক্লিনিকগুলো পরিদর্শন করছি। গ্রামীণ জনপদে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকারের এমন উদ্যোগ। সেবা গ্রহীতাদের যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো আমরা তদারকি করব।’

আরও