শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) উদ্যোক্তারা দেশের এবং বিশ্ব অর্থনীতির মেরুদণ্ড ও মূল চালিকাশক্তি। বিশ্বব্যাপী অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখন এসএমই খাতের অন্তর্ভুক্ত। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মোট দেশজ উৎপাদনের একটি বড় অংশ এ খাত থেকে অর্জিত হচ্ছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ, পরিবর্তনশীল বাজারভিত্তিক ক্রেতা ও ভোক্তার চাহিদা পূরণ এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে এ খাতের প্রতিষ্ঠাকে নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বিকালে ‘বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ বছর দিবসটি উদযাপনে মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে অ্যাক্রিডিটেশন: ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগকে উৎসাহিত করা। শিল্প উপদেষ্টা আরো বলেন, আজকের অ্যাক্রিডিটেশন দিবস উদযাপনের মাধ্যমে সমস্ত পরীক্ষাগার, সনদ প্রদানকারী সংস্থা, পরিদর্শন সংস্থা, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসহ সব অংশীজন, জাতীয় মান অবকাঠামো উন্নয়ন এবং রফতানি বাণিজ্যের সম্প্রসারণে অ্যাক্রেডিটেশনের গুরুত্ব সম্পর্কে অধিকতর অবহিত হওয়ার পাশাপাশি রফতানি বাণিজ্যে কারিগরি বাধা দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের মহাপরিচালক এম এ কামাল বিল্লাহ্। এছাড়া মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের উপমহাব্যবস্থাপক ফাহিম বিন আসমত।
প্রবন্ধ উপস্থাপনায় ফাহিম বিন আসমত বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতি এগিয়ে নিতে ও নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এসএমই খাত। এ খাত বিশ্বের ৫০ শতাংশ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। প্রতি ১ড়টি চাকরির মধ্যে ৭টি রয়েছে এ খাতে। এছাড়া এসডিজি লক্ষ্য পূরণেও এর ভূমিকা রয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের জিডিপিতে ভূমিকা রাখছে এসএমই খাত। তার মধ্যে বাংলাদেশে ৩০ শতাংশ, চীনে ৬০ শতাংশ, শ্রীলংকায় ৫২ শতাংশ, জাপানে ৫০ শতাংশ, ভারতে ৩৭ শতাংশ, নেপালে ২২ শতাংশ ও পাকিস্তানে ৪০ শতাংশ।’
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ অর্থনৈতিক ইউনিট রয়েছে। যা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩ কোটি ৮ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। জাতীয় অর্থনীতিতে বর্তমানে শিল্প খাতের অবদান ৩৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ। ২০২৭ সালে এটিকে ৪০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে দেশের জিডিপিতে ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ অবদান রাখছে এসএমই খাত। দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসএমই খাত।