নাটোরের লালপুরে থানা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. শরিফুন্নেছার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের গাইড বই কিনতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ তদন্ত করতে এসে তার কক্ষে গাইড বইয়ের স্তূপ দেখে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হায়দার আলী। গতকাল দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বছরের শুরু থেকে থানা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গাইড বই কিনতে চাপাচাপি করে আসছেন প্রধান শিক্ষক মোছা. শরিফুন্নেছা। সহকারী শিক্ষকদের মাধ্যমে এমনকি নিজে শ্রেণীকক্ষে গিয়েও লেকচার প্রকাশনীর গাইড বই কেনার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের চাপ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ আছে। বিষয়টি শিক্ষার্থীরা অভিভাবকদের জানালে তারা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হায়দার আলীর দ্বারস্থ হন। গতকাল দুপুরে তিনি বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে লেকচার প্রকাশনীর গাইড বইয়ের স্তূপ খুঁজে পান। এ সময় শরিফুন্নেছা বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। একপর্যায়ে হায়দার আলী বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হায়দার আলী বলেন, প্রধান শিক্ষক বছরের শুরুতেই গাইড বই কেনার জন্য শিক্ষার্থীদের চাপ দেয়া শুরু করেছেন। এ ব্যাপারে খোঁজ নিতে এসে তার রুমে গিয়ে গাইড বইয়ের স্তূপ দেখছি। তাই ওই রুমে তালা দিয়েছি।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফুন্নেছার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য জানা যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মুল বানিন দ্যুতি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও একাডেমিক সুপারভাইজারকে সেখানে পাঠানো হয়েছিল। তারা জানিয়েছেন, সেখানে নিষিদ্ধ গাইড বই নয়, শিক্ষক সমিতির সৌজন্যে কপি রাখা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।