গত দুই সপ্তাহের ভাঙনে ঘাট এলাকার অন্তত ১০০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে দৌলতদিয়ার ৩ ও ৪ নম্বর ফেরিঘাটসহ প্রায় ৫০০ মিটার এলাকা। ফলে পদ্মা নদীর পাড়ের দুটি গ্রামের পাঁচ শতাধিক পরিবার ভাঙন আতঙ্কে দিন পার করছে।
সরজমিনে দেখা যায়, দৌলতদিয়ার সাতটি ঘাটের মধ্যে বর্তমানে ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ঘাটগুলো সচল আছে। ঈদের আগে ৫ নম্বর ঘাটটি নতুন করে তৈরি করা হলেও মিডওয়াটার লেভেলে থাকায় চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। আর ৬ নম্বর ঘাটটি হাই ওয়াটার লেভেলে থাকায় বন্ধ রয়েছে। এছাড়া কয়েক বছর আগে ভাঙনে বিলীন হওয়ার পর থেকেই বন্ধ ১ ও ২ নম্বর ঘাট।
ভুক্তভোগীরা জানান, এখানকার অধিকাংশ পরিবার এরই মধ্যে দুই থেকে তিনবার ভাঙনের শিকার হয়ে এখানে এসে বসতি গড়েছিল। এখন আবার ভাঙলে তাদের যাওয়ার কোনো জায়গা থাকবে না।
বর্তমানে বন্ধ থাকা ১ নম্বর ঘাটসংলগ্ন মজিদ শেখের পাড়া ও সিদ্দিক কাজী পাড়া এলাকায় নতুন করে ভাঙন তীব্র হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে এ এলাকায় অন্তত ৫০ মিটার নদীগর্ভে চলে গেছে। এর অদূরে সচল ৩ ও ৪ নম্বর ঘাটের মাঝামাঝি এলাকায়ও ভাঙন শুরু হওয়ায় পুরো ফেরিঘাট এলাকাসহ পদ্মাপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীভাঙন প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে গত কয়েক বছরে পদ্মা নদীর দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম এলাকায় বহু বাড়িঘর, ফসলি জমি, লঞ্চ ও ফেরিঘাট এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। তাদের দাবি, শুষ্ক মৌসুমে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে বর্ষা মৌসুমে জিওব্যাগ ফেলার কারণে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও ভাঙন পুরোপুরি রোধ করা যায়নি। তাই বর্ষার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত জিওব্যাগ ফেলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, ‘নতুন করে ভাঙনের ফলে ফেরিঘাটসহ স্থানীয় পরিবারগুলো ঝুঁকিতে পড়েছে। জেলা প্রশাসক সম্প্রতি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রয়োজনীয় কারিগরি পদক্ষেপ নেবে।’
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘এলাকাটি ঐতিহ্যগতভাবেই ভাঙনপ্রবণ। ১ নম্বর ঘাট এলাকায় ভাঙন হলেও সেটি সচল না থাকায় ফেরি চলাচলে সমস্যা হচ্ছে না। তবে সচল ৩ ও ৪ নম্বর ঘাটের ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। ঘাট এলাকায় ভাঙন রোধে কাজ করে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ। যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি তাদের অবহিত করা হয়েছে।’