কমলাপুর স্টেশন ঘিরে চার সংস্থার মেগা ১৪ প্রকল্প

দেশের ব্যস্ততম রেলওয়ে স্টেশন ঢাকার কমলাপুর। ঐতিহ্যবাহী স্টেশনটির বয়স ৫৪ বছর। কালের বিবর্তনে কমলাপুর পরিণত হয়েছে রাজধানীর অন্যতম বাণিজ্য কেন্দ্রে। সমানতালে হচ্ছে উন্নয়ন ও উন্নয়নের পরিকল্পনা। যোগাযোগ অবকাঠামোকেন্দ্রিক একের পর এক প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে এ স্টেশন কেন্দ্র করে। চারটি মেট্রোরেল, একটি করে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভার, একাধিক সাবওয়ের সঙ্গে কমলাপুরকে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

দেশের ব্যস্ততম রেলওয়ে স্টেশন ঢাকার কমলাপুর। ঐতিহ্যবাহী স্টেশনটির বয়স ৫৪ বছর। কালের বিবর্তনে কমলাপুর পরিণত হয়েছে রাজধানীর অন্যতম বাণিজ্য কেন্দ্রে। সমানতালে হচ্ছে উন্নয়ন উন্নয়নের পরিকল্পনা। যোগাযোগ অবকাঠামোকেন্দ্রিক একের পর এক প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে স্টেশন কেন্দ্র করে। চারটি মেট্রোরেল, একটি করে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ফ্লাইওভার, একাধিক সাবওয়ের সঙ্গে কমলাপুরকে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ রেলওয়েও স্টেশনটি ঘিরে মাল্টি-মোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব, একাধিক নতুন রেলপথ, হাসপাতালসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা করছে। সব মিলিয়ে কমলাপুর স্টেশন ঘিরে চলমান পরিকল্পনাধীন মিলে সরকারের চারটি সংস্থার উন্নয়ন প্রকল্পের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪টি।

বর্তমানে কমলাপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত তৃতীয় চতুর্থ রেলপথ নির্মাণের কাজ চলছে। একইভাবে চলমান আছে পদ্মা সেতু রেল সংযোগের জন্য নতুন রেলপথ ঢাকা নারায়ণগঞ্জ ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণকাজ। তিন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) চলমান উত্তরা-মতিঝিল মেট্রো লাইনটি কমলাপুর পর্যন্ত বর্ধিত করার কাজ শুরুর অপেক্ষায়। আর কমলাপুর এলাকায় শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের তৃতীয় পর্যায়ের নির্মাণকাজ, যেটি বাস্তবায়ন করছে সেতু বিভাগ। এরই মধ্যে কমলাপুর এলাকায় রেলপথ সম্প্রসারণে জটিলতা তৈরি করেছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প। এর জন্য সেতু বিভাগের সঙ্গে রেলওয়ের সমন্বয়ের ঘাটতিকে দায়ী করছেন যোগাযোগ অবকাঠামো বিশেষজ্ঞরা। এমন সমন্বয়হীনতা অব্যাহত থাকলে পরিকল্পনাধীন প্রকল্পগুলো নিয়ে কমলাপুর স্টেশন এলাকায় জটিল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার শঙ্কার কথাও জানিয়েছেন তারা।

কমলাপুর স্টেশন এলাকায় চলমান পরিকল্পনাধীন মিলিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকল্পের সংখ্যা সাত। এর মধ্যে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) পদ্ধতিতে মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব, ডিজেল রানিং রুম ৫০ শয্যার মেডিকেল কলেজ নার্সিং ইনস্টিটিউট নির্মাণের প্রকল্প পরিকল্পনাধীন। ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের মধ্যে হাইস্পিড রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও তা আপাতত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে সংস্থাটি। আর রেলওয়ের চলমান প্রকল্প আছে তিনটি। তিনটিই নতুন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প, যেগুলো সংযুক্ত হচ্ছে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের সঙ্গে।

অন্যদিকে ডিএমটিসিএল চারটি মেট্রো লাইন সংযুক্ত করতে যাচ্ছে কমলাপুর স্টেশনে। এর মধ্যে উত্তরা-মতিঝিলের এমআরটি লাইন- বর্ধিত করে কমলাপুর স্টেশনের সামনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কারণে কমলাপুরের বিদ্যমান স্টেশন ভবনটিই ভেঙে ফেলার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। এর বাইরে পরিকল্পনাধীন বিমানবন্দর-কমলাপুরের এমআরটি লাইন-, গাবতলী-চট্টগ্রাম রোডের এমআরটি লাইন- কমলাপুর-নারায়ণগঞ্জের এমআরটি লাইন- যুক্ত হবে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে।

সেতু বিভাগের বাস্তবায়নাধীন ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একটি আপ/ডাউন র্যাম্প নামানো হবে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে। এখনো এক্সপ্রেসওয়েটির র্যাম্পের কাজ শুরু না হলেও নকশা নিয়ে দেখা দিয়েছে জটিলতা। এর বাইরে ভবিষ্যতে ঢাকা থেকে টঙ্গীর মধ্যে রেলপথ সম্প্রসারণেও জটিলতা তৈরি করছে প্রকল্প। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন শাহজাহানপুর এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটির নকশা যেভাবে করা হয়েছে, তাতে ঢাকা-টঙ্গীর মধ্যে পঞ্চম ষষ্ঠ রেলপথ তৈরির জন্য পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যাবে না।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ছাড়াও ঢাকায় রাজধানীতে ১১টি সাবওয়ে লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সেতু বিভাগ। এর দুটি কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকার সঙ্গে সংযুক্ত হবে। অন্যদিকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনায় থাকা ঝিলমিল ফ্লাইওভারের একটি আপ/ডাউন র্যাম্প হওয়ার কথা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায়। যদিও প্রকল্প থেকে আপাতত সরে এসেছে সরকার।

একটি জায়গাকে কেন্দ্র করে ১৪টি মেগা প্রকল্পের পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় থাকা গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা। বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক . সামছুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ঢাকার যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নে অতীতে অনেক ভুল পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এটা হয়েছে প্রকল্পকেন্দ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য। যে সম্ভাবনাগুলো ছিল, সেগুলোর বেশির ভাগই আমরা নষ্ট করেছি। এখন এক কমলাপুর ঘিরেই তিন-চারটি সংস্থা উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এগুলোর মধ্যে সমন্বয় না হলে কিন্তু কমলাপুর-কেন্দ্রিক যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের যে সুযোগ রয়েছে, তা নষ্ট হয়ে যাবে। সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করে পরিবহন ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের জন্য ডিটিসিএ গঠন করেছে সরকার। কিন্তু সংস্থাকে সেভাবে ক্ষমতা দেয়া হয়নি। ডিটিসিএকে যদি শক্তিশালী করা হতো, তাহলে আজকে কমলাপুর নিয়ে যেসব সমস্যা দেখা দিচ্ছে, সেগুলো আসতই না বলে মনে করছেন তিনি।

কমলাপুর স্টেশনকেন্দ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বণিক বার্তাকে বলেন, বর্তমান সরকার সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যই কমলাপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো করা হচ্ছে। দেশের যেকোনো গন্তব্য থেকে কমলাপুরে এসে যাত্রীরা যেন মেট্রোরেল, ফ্লাইওভার, এক্সপ্রেসওয়ে, সাবওয়ের মতো মাধ্যম ব্যবহার করে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে যেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো গৃহীত হয়েছে। পাশাপাশি আমরা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনকে মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছি। প্রকল্প যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি রেলওয়ের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডেও ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি।

আরও