প্রস্তাবিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হচ্ছে ২০ হাজার কোটি টাকার মূলধন সহায়তা। এক্ষেত্রে নগদ অর্থের পাশাপাশি সুকুক ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন সরবরাহের কথা ছিল। সে পরিকল্পনা থেকে অবশ্য সরে এসেছে সরকার। সুকুক ইস্যুর বিষয়টি সময়সাপেক্ষ হওয়ায় মূলধনের পুরোটাই দেয়া হচ্ছে নগদ অর্থে। আজকের মধ্যেই প্রস্তাবিত নতুন ব্যাংকের জন্য মূলধন বাবদ ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড় করা হতে পারে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
আর্থিকভাবে রুগ্ণ হয়ে পড়া এক্সিম, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী, সোশ্যাল ইসলামী এবং ইউনিয়ন ব্যাংকের সম্পদ ও দায় অধিগ্রহণ করে নতুন ব্যাংক গঠনের বিষয়ে গত সেপ্টেম্বরে অনুমোদন দেয় সরকার। নতুন এ ব্যাংকের নাম রাখা হয় ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’। এরই মধ্যে ব্যাংকের সংঘবিধি ও সংঘ স্মারক অনুমোদনের পাশাপাশি যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তর (আরজেএসসি) থেকে নামের ছাড়পত্রও দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে লাইসেন্স পাওয়ার পর আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে ব্যাংকটির নিবন্ধন নিতে হবে। নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স অনুমোদনের বিষয়ে আগামী রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
নতুন ব্যাংক গঠনের অনুমোদন দেয়ার সময় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল এ ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন হবে ৪০ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা দেবে সরকার; যার ১০ হাজার কোটি টাকা নগদে এবং বাকি ১০ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করা হবে সুকুক বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে। তবে সময়সাপেক্ষ হওয়ায় সুকুকের মাধ্যমে নতুন ব্যাংকটিকে মূলধন সরবরাহের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে সরকার। পুরো টাকাই দেয়া হবে নগদে। তাছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতের বিপরীতে ইস্যু করা হবে নতুন ব্যাংকের শেয়ার, যা বেইল-ইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। এ প্রক্রিয়ায় ব্যাংকের গ্রাহক ও অন্যান্য পাওনাদারের পাওনার একাংশ শেয়ারে রূপান্তর হবে। পরে প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এটি পরিশোধ করা হবে।
নতুন ব্যাংক গঠনে প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরি থেকে শুরু করে আইনি যেসব আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়ন করছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স অনুমোদনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। খুব শিগগিরই এটি চূড়ান্ত করা হবে।’
ব্যাংক পাঁচটির আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে ২০২৪ সাল শেষে তাদের কর্মীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৮১-তে। এর মধ্যে এক্সিম ব্যাংকের কর্মী সংখ্যা ৩ হাজার ৪৮৭, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৫ হাজার ৯৯৬, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৪ হাজার ৩৯, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ২ হাজার ৪৮৬ ও ইউনিয়ন ব্যাংকের কর্মী সংখ্যা ২ হাজার ৭৩ জন। তাদের পেছনে বেতন-ভাতা বাবদ বছরে ১ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়। তাছাড়া ব্যাংকগুলোর পরিচালন ব্যয় নির্বাহের জন্যও প্রতি বছর বড় অংকের অর্থ গুনতে হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পাঁচটি বেসরকারি ব্যাংকের সমুদয় সম্পদ ও দায় নতুন ব্যাংকের অধীনে চলে যাবে। এক্ষেত্রে ব্যাংকের মালিকানার বড় অংশ সরকারের কাছে থাকলেও এটি মূলত বেসরকারি ব্যাংক হিসেবেই পরিচালিত হবে। নতুন ব্যাংক কার্যক্রম শুরুর পর পাঁচ ব্যাংকের যেসব ক্ষুদ্র আমানতকারী রয়েছেন তাদের অর্থ ফেরত দেয়ার ক্ষেত্রে দেয়া হবে অগ্রাধিকার। আর বড় আমানতকারীদের অর্থ ধাপে ধাপে পরিশোধ করা হবে। সরকারের পরিরকল্পনা অনুযায়ী নতুন ব্যাংকটিকে লাভজনক করা সম্ভব হলে তিন বছর পর এটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হবে। তাছাড়া ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হলে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে এ ব্যাংক থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হবে সরকারের বিনিয়োগ।