ঈদুল ফিতরে যাত্রী পরিবহনে উত্তরের জেলা নাটোর থেকেই সড়ক-মহাসড়কে নামছে ৩৫০-৪০০ বাস। এ লক্ষ্যে জেলার ওয়ার্কশপগুলোয় দিন-রাত ধরে চলছে পুরনো ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি মেরামত। নানা রঙে রঙিন এসব বাস সড়ক-মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়ানোর দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে বহুগুণে। তবে বাস মালিক সমিতি ও হাইওয়ে পুলিশ বলছে, ফিটনেসবিহীন ও অদক্ষ চালকের বিষয়ে কোনো ছাড় নেই।
নাটোর শহরের ওয়ার্কশপগুলো ঘুরে দেখা যায়, লক্কর-ঝক্কর ও পড়ে থাক বাসগুলোর ঝাঁঝরা শরীর থেকে মেশিন দিয়ে চলছে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে রঙ তোলার কাজ। কেউ প্রলেপ দিচ্ছেন রঙের। কেউ আবার ঝালাই দিয়ে তৈরি করছেন গাড়ির বডি। এমন কর্মযজ্ঞ নাটোর শহরের অর্ধশত ওয়ার্কশপে চিত্র। লক্ষ্য আসন্ন ঈদে যাত্রী পরিবহন। এজন্য দিনরাত কাজ করে করে ফিটনেসবিহীন এসব গাড়ি মেরামত করছেন শ্রমিকরা। যেন দম ফেলার ফুরসত নেই তাদের। যাত্রী আনানেয়ার জন্য এসব বাসই চোখ ধাঁধানো রঙ লাগিয়ে নামানো হবে সড়ক-মহাসড়কে। এসব বাস দিয়ে ঈদের এক সপ্তাহে অন্তত কয়েক কোটি টাকার ব্যবসা হবে বলেও জানান পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
সড়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ফিটনেসবিহীন গাড়ি সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে বহুগুণে। এতে করে দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধিরও আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য এসব ফিটনেসবিহীন বাস ওয়ার্কশপ থেকে মহাসড়কে ওঠার আগেই প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজন বলে মনে করেন বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ।
নাটোর জেলায় সড়ক-মহাসড়ক রয়েছে প্রায় ১০০ কিলোমিটার। এসব মহাসড়কে ঈদযাত্রায় বেড়ে যায় গাড়ির পরিমাণ। এতে ঝুঁকিপ্রবণ হয়ে ওঠে মহাসড়ক। ঘটে প্রাণহানির ঘটনা। তবে ঈদযাত্রায় মানুষের ভোগান্তি মুক্ত রাখতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। ফিটনেসবিহীন গাড়ি এবং অদক্ষ চালক যাতে গাড়ি চালাতে না পারে সেজন্য মহাসড়কে কঠোর নজরদারির কথা জানান ঝলমলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনএম মাসুদ।