দীর্ঘসূত্রতার পাশাপাশি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নির্মাণে অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সেতুর রডে মরিচা ও কংক্রিটে ফাটল দেখা দেয়ায় কাঠামোগত স্থায়িত্ব নিয়েও শঙ্কায় আছেন স্থানীয়রা। ঠিকাদারদের গাফিলতি ও তদারকির অভাবে জনভোগান্তি চরমে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে টেন্ডারের মাধ্যমে চারটি সেতুর কার্যাদেশ দেয়া হয়। এর মধ্যে গাইন্দ্যা ও ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় তিনটি আর রাজস্থলী সদরে একটি সেতু নির্মাণাধীন। কিন্তু গত পাঁচ বছরেও কোনোটির কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদাররা বছরের মাত্র তিন-চার মাস (ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল) ঢিলেঢালাভাবে কাজ করেন। বাকি সময় কাজ বন্ধ রাখেন।
এতে বর্ষাকালে ব্যবহৃত রডে মরিচা ধরে। সেসব যথাযথভাবে অপসারণ ছাড়াই ঢালাই দেয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী আমদানীকৃত উন্নত মানের পাথর ব্যবহারের কথা থাকলেও গাইন্দ্যা ও ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের তিনটি সেতুর ভিত্তি ও গার্ডার ঢালাইয়ে স্থানীয় ‘চিংখ্যং ঝিরি’র পাথর ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিটি সেতুর নিচে ২০ ফুট গভীরতায় পাইল পোঁতার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা মানা হয়নি। এমনকি সেতুর রেলিং ও ব্লকের সংযোগস্থলেও অসামঞ্জস্য দেখা গেছে। নির্মাণাধীন সেতুগুলো সংযোগ সড়কের চেয়ে নিচু। এছাড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য নকশায় ৫০ ফুট দৈর্ঘ্য থাকলেও বাস্তবে করা হচ্ছে মাত্র ২৫ ফুট।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, চারটি সেতুর প্রতিটির ব্যয় প্রায় ১-৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে দুটি বাস্তবায়ন করছে ইসলাম অ্যান্ড ব্রাদার্স আর অন্য দুটি করছে ঠিকাদার এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরার প্রতিষ্ঠান।
নির্মাণে বিলম্বের কারণ হিসেবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইসলাম অ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী মো. আকাশ বণিক বার্তাকে জানান, লেআউট পরিবর্তন, দুর্গম এলাকায় শ্রমিক সংকট ও নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধিই প্রধান কারণ। তবে ঝিরির পাথর ব্যবহারের বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান। যদিও পাথর সরবরাহকারী সাবেক ইউপি সদস্য শিবুচান তঞ্চঙ্গ্যা তিনটি সেতুর জন্য ঝিরির পাথর সরবরাহ করার কথা স্বীকার করেছেন।
সার্বিক বিষয় জানতে চাইলে চারটি সেতুর মধ্যে তিনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে বলে দাবি করেছেন এলজিইডি রাঙ্গামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী আহামদ শফি। ঝিরির পাথর ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সেতুতে নয়, হয়তো ব্লকের কাজে ঝিরির পাথর ব্যবহৃত হতে পারে।’ তবে চূড়ান্ত বিল দেয়ার আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।