সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় হামলায় ১৩ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ তথ্য নিশ্চিত করে রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি বিজয় বসাক জানান, গতকাল বেলা ২টার দিকে থানায় হামলা করা হয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে হামলাকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে থানায় ঢুকে তারা পুলিশ সদস্যদের পিটিয়ে হত্যা করে বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার এক পুলিশ সদস্যও হামলায় নিহত হয়েছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা অসহযোগ আন্দোলন ঘিরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং ২৮ থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা হয়েছে বলে গতকাল পাঠানো এক বার্তায় দাবি করে পুলিশ সদর দপ্তর।
পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, ডিএমপির যাত্রাবাড়ী ও খিলগাঁও থানা, টাঙ্গাইলের গোড়াই হাইওয়ে থানা, বগুড়া সদর, দুপচাঁচিয়া ও শেরপুর থানা এবং নারুলী পুলিশ ফাঁড়ি, জয়পুরহাট সদর থানা ও কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানায় হামলা করা হয়েছে। এছাড়া রংপুরের গঙ্গাচড়া, মিঠাপুকুর, পীরগাছা, পীরগঞ্জ, বদরগঞ্জ; ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও আশুগঞ্জ থানা; সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও এনায়েতপুর, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর থানা; হবিগঞ্জের মাধবপুর ফাঁড়ি; ময়মনসিংহ রেঞ্জ অফিস; নারায়ণগঞ্জ; বগুড়া; পাবনা এবং দিনাজপুর সদর থানায় হামলা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার অফিস সূত্র দাবি করে, গতকাল বিকালে থানা ঘেরাও করে অগ্নিসংযোগ ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। প্রথমে হাজার খানেক মানুষ দলবেঁধে থানার দিকে আসে। সেখানে তারা কিছুক্ষণ অবস্থান করে চলে যায়। পরে কয়েকশ লোক অতর্কিতে থানায় এসে হামলা চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে কমপক্ষে ১৩ পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। থানার সামনে ও ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে ছিল মরদেহগুলো। তাদের দেহে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহতদের নাম-পরিচয় ও পদবি শনাক্ত করা যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি বিজয় বসাক জানান, নিহত পুলিশ সদস্যদের নাম ও পদবি শনাক্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কেবল এনায়েতপুর থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানায়ও হামলা ও আগুন দেয়া হয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাইওয়ে থানার গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে হমলাকারীরা অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া উল্লাপাড়ার সংসদ সদস্য গাজী সফিকুর রহমান সফি, শাহজাদপুরের সংসদ সদস্য চয়ন ইসলামের বাড়ি এবং জেলার উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, বেলকুচি ও রায়গঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল বলেন, ‘জেলা সদরসহ বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। এনায়েতপুরে তাণ্ডব চালানো হয়েছে। গাছ কেটে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়। পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বর্তমানে সেখানে সেনাবাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। আমরা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এদিকে কুমিল্লায় হামলাকারীদের মারধরে হাইওয়ে পুলিশের এক সদস্য নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরো সাত-আট পুলিশ সদস্য। কুমিল্লার চান্দিনা ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে ফাঁড়ির সামনে গতকাল বিকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত পুলিশ সদস্যের নাম মো. এরশাদ আলী। ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে ফাঁড়ির কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন তিনি।
এ তথ্য নিশ্চিত করে কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ সুপার মো. খায়রুল আলম দাবি করেন, হামলাকারীরা সকাল থেকে দাউদকান্দি ও চান্দিনার বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে হামলা চালায়। দুপুরে ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে ফাঁড়িতে হামলা করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় ফাঁড়িতে থাকা অন্য পুলিশ সদস্যরা ছাদে উঠে গেলেও এরশাদ উঠতে পারেননি। তখন হামলাকারীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে।