দেশে চলতি বোরো মৌসুমে প্রায় তিন কোটি টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যার মাধ্যমে দুই কোটি টনের বেশি চাল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু আসন্ন বোরো মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে মাত্র সাড়ে ১৭ লাখ টন ধান ও চাল কেনার ঘোষণা দিয়েছে সরকারের সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর। এর মধ্যে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা মাত্র সাড়ে তিন লাখ টন এবং চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ১৪ লাখ (সেদ্ধ চাল)।
শুক্রবার (১১ এপ্রিল) সরকারের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন দেশের ৪৩ বিশিষ্ট নাগরিক। একই সঙ্গে তারা এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনেরও দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতি প্রদানকারী নাগরিক সমাজ মনে করে, সরকারের এ সামান্য পরিমাণ ধান (সাড়ে তিন লাখ টন) কেনার প্রস্তাব কৃষকের সঙ্গে পরিহাস ছাড়া আর কিছুই নয়। যেখানে গত বছর ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ছয় লাখ টন। বোঝা যাচ্ছে, মিলারদের বাণিজ্য সুবিধা দিতেই ধান না কিনে বেশি পরিমাণে চাল কেনার এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ প্রস্তাব দেশের কৃষকের জন্য ক্ষতিকর বলে আমরা এ উদ্যোগের প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তারা কিছু দাবি তুলে ধরেছেন। এগুলো হলো: ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পরিবর্তন করে ১৭ লাখ টনে উন্নীত করতে হবে; চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা পাঁচ লাখ টনে নামিয়ে আনতে হবে; চলতি বোরো মৌসুমেই কৃষকের কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে ধান কেনার পরিমাণ ৫০ লাখ টনে উন্নীত করতে হবে; আগামী অর্থবছরের মধ্যেই সরকারি গুদামের সক্ষমতা ২১ লাখ থেকে ৫০ লাখ টনে উন্নীত করতে হবে; সরকারের সংগ্রহ কার্যক্রম পুরোপুরি সংস্কার করতে হবে।
বিবৃতিতে সই করেছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, আনোয়ার ফারুক, মোশাহিদা সুলতানা, মাহা মির্জা, আলতাফ পারভেজ, কল্লোল মোস্তফা, মাহমুদুল সুমন, পাভেল পার্থ, নাসরিন খন্দকার, নাজনীন শিফা, ডা. মো. হারুন-অর-রশিদ, মো. নুরে আলম, সায়েমা খাতুন, ড. শরৎ চৌধুরী, রায়ান হাসান, অলিউর সান, হানা শামস আহমেদ, জাবির আহমেদ জুবেল, অমল ত্রিপুরা, সালমান সিদ্দিকী, ফাহিম আহমেদ চৌধুরী, তাওফিকা প্রিয়া, মেঘমল্লার বসু, আরমানুল হক, ব্রাত্য আমিন, আকরাম খান, মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, আবদুল্লাহ জাফর, সাইদ আহমদ, কৌশিক আহমেদ, কামরুজ্জামান রিপন, রেং ইয়ং ম্রো, মারজিয়া প্রভা, সাহানোয়ার সাইদ শাহীন, আবু লুৎফে ফজলে রহিম খান প্রমুখ।