গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার দস্তন-কদমি সড়কটি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সংস্কারের অভাবে সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। এসব খানাখন্দে বৃষ্টির পানি জমে ভোগান্তি আরো বেড়ে যায়। সড়কটি দিয়ে চলাচলে দুই উপজেলার যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। বেশি সমস্যায় পড়তে হয় নারী, শিশু ও রোগীর। তাই ইটের তৈরি (এইচবিবি) এ সড়ক দ্রুত পাকা করার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। তবে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বলছে, চলতি অর্থবছরে দস্তন-কদমি সড়কটি কার্পেটিং করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সড়কটির এক প্রান্তে রয়েছে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের দস্তন গ্রাম এবং অন্য প্রান্তে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার কদমি গ্রাম। দস্তন-কদমি সড়ক এ দুই উপজেলাকে যুক্ত করেছে। দুই উপজেলার প্রায় ১০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ কাশিয়ানীর জয়নগর বাজারে কৃষিপণ্য ও সদাই বেচাকেনা করে। এ বাজারে যাতায়াতের সুবিধার জন্য স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীন ১২ বছর আগে নির্মাণ করা হয় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ১৬ ফুট প্রস্থের ইটের এইচবিবি সড়ক।
তবে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির অধিকাংশ স্থানে ইট সরে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্ত কাদাপানিতে একাকার হয়ে গেছে। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে ভ্যান, ইজিবাইক, মালবোঝাই পিকআপসহ শত শত যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বিভিন্ন সময় যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে যানবাহনের। এতে ক্ষতি হচ্ছে চালকদের, যাত্রীদের যাতায়াতে সময় বেশি লাগছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও রোগীরা আছেন চরম ভোগান্তিতে। আর দুই উপজেলার গর্ভবতী নারীদের জরুরি সময় হাসপাতালে যেতে হয়। এ সড়কে যানবাহনের ঝাঁকুনিতে তারা আরো অসুস্থ হয়ে পড়েন।
এদিকে সড়কের একটি অংশে ছোট সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে সংযোগ সড়ক মেরামত না করায় বৃষ্টি হলেই কাদার সৃষ্টি হয়। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়ে এলাকাবাসী। এসব এলাকার উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রির জন্য হাটবাজারে নিতে খুব বেগ পেতে হচ্ছে কৃষকদের। ভাঙাচোরা সড়কের কারণে কোনো পণ্য নিয়ে ভ্যানচালকরা যেতে চান না। রাজি হলেও অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করেন তারা। ফলে সঠিক সময়ে কৃষিপণ্য বাজারে নিতে না পারায় লোকসান গুনছেন কৃষকরা।
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান মিয়া বলেন, ‘সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। ইটের সলিং রাস্তা হওয়ায় যানবাহন চলাচলে খুবই সমস্যা হয়। জনগণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সড়কটি সম্প্রসারণসহ পাকাকরণের দাবি জানাই।’
গোপালগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এহসানুল হক বলেন, ‘দস্তন-কদমি সড়কটি এইচবিবি সড়ক। সড়কটির উন্নতির আগে ওই সড়কের একটি ছোট ব্রিজ প্রশস্তকরণের কাজ শেষ হয়েছে। এতে কিছু স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সড়কটি সম্প্রসারণসহ কার্পেটিং করার পরিকল্পনা রয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলীকে এ ব্যাপারে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’