ফলে কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ৬৫ থেকে বেড়ে ১৮০ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। বর্তমানে দেশের একমাত্র এ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটই সচল রয়েছে। হ্রদের পানি আরো বাড়লে এ কেন্দ্রের উৎপাদন আরো বাড়ানো সম্ভব হবে।
জানা গেছে, কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা ২৪২ মেগাওয়াট। তবে শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানি কমলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উৎপাদন তলানিতে নামে। কখনো কখনো কেন্দ্রের পাঁচ ইউনিটের একটি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ২০-২৫ মেগাওয়াট। সপ্তাহখানেক আগে কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটে ৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। তিনদিন আগেও পাঁচ ইউনিটে ১৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন হয়েছে। এখন সেটি বেড়ে ১৭৯-১৮০ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে।
কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই হ্রদের পানির পরিমাপের রুল কার্ভ (সময়সূচিভিত্তিক পানি ওঠানামার মাপ) অনুযায়ী, গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে ৯০ দশমিক ৩১ মিন সি লেভেল (এমএসএল) পানি রয়েছে। যদিও স্বাভাবিকভাবে হ্রদে পানির থাকার কথা ৮৫ দশমিক ৪৪ এমএসএল। রুল কার্ভ হিসাবে বর্তমানে প্রায় ৫ এমএসএল পানি বাড়তি রয়েছে।
জানা গেছে, কাপ্তাই হ্রদে পানির ধারণ সক্ষমতা ১০৯ এমএসএল। ১০৮ এমএসএল পর্যন্ত বিপৎসীমা ধরা হয়।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টিপাতের প্রভাবে এখন পাঁচ ইউনিটে উৎপাদন হচ্ছে ১৭৯-১৮০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটে ৪২ মেগাওয়াট, তৃতীয় ইউনিটে ৩৫ এবং চতুর্থ ও পঞ্চম ইউনিটে ৩০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। গড়ে প্রতি ইউনিট ৩৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে রয়েছে। তবে কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়লে কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়ানো হবে বলে মনে করেন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।
কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান বলেন, ‘বর্তমানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটে ১৮০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। দুই-তিনদিন আগে উৎপাদন ছিল ১৫০ মেগাওয়াট। বৃষ্টিপাতের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়ানো হবে।
ষাটের দশকে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে খরস্রোতা কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দেয়ার কারণে গড়ে ওঠে বিস্তীর্ণ কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদ। পরবর্তী সময়ে ১৯৬২ সালে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দেয়া অংশে চালু করা হয় দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। কৃত্রিমভাবে হ্রদের পানি সংরক্ষণের মাধ্যমেই করা হয় উৎপাদন। শুরুর দিকে কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ৮০ মেগাওয়াট।
পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে স্থাপনাটির বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে মোট ২৪২ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হয়েছে।
এ উৎপাদনের পুরো বিদ্যুৎ যায় জাতীয় গ্রিডে। গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যে পরিমাণ উৎপাদন ব্যয় হয়ে থাকে; সেটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে অনেক বেশি। জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন ব্যয় বহুকাংশে সাশ্রয়ী, মাত্র ৪০ পয়সা। যে কারণে এটির উৎপাদন বাড়ানো গেলে ব্যয় কম হয় থাকে বিপিডিবির। তবে কাপ্তাই হ্রদে পানির পর্যাপ্ততা সাপেক্ষে দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উৎপাদন বাড়ানো-কমানো নিয়ন্ত্রণ করে ন্যাশনাল লোড ডেসপাচ সেন্টার (এনএলডিসি)।