বন্যপ্রাণী দেখতে নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব দিয়ে পর্যটকদের প্রবেশ করতে হয় সুন্দরবনে। শুরু থেকেই বনে প্রবেশ ফি ও অন্যান্য রাজস্ব আহরণে করে আসছিল বন বিভাগ। এবার ৩৩টি শর্তজুড়ে দিয়ে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের রাজস্ব আহরণে দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছে বন বিভাগ। ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরে ৩০ লাখ টাকার চুক্তিতে রাজস্ব আহরণে করবে ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান।
যদিও এ বিষয়ে বন কর্মকর্তারা সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানাননি। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আহরণ না হওয়া এবং এ খাতে অনিয়ম ঠেকাতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন বিভাগ। এর আগে ২০১১-১২ অর্থবছরে একবার রাজস্ব আহরণে ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। যদিও তখন কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব অর্জিত হয়নি বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। এর পর থেকে দরপত্র আহ্বান করা হলেও কেউ তাতে সাড়া দেয়নি। অবশ্য ২০২৩ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতায় পর্যটক কম হওয়ার পরও করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র থেকে প্রায় ২৪ লাখ ১১ হাজার ৫৭৩ টাকা রাজস্ব এসেছিল।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের করমজল, হারবারিয়া, আন্ধারমানিক, দুবলা, কটকা, কচিখালী, নীলকমলসহ সমুদ্র তীরবর্তী বনাঞ্চলের সাতটি পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। প্রতি মৌসুমে এসব স্থানে আসে দেশী-বিদেশী পর্যটক। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব দিয়ে দর্শনার্থীকে প্রবেশ করতে হয় সুন্দরবনে। শুরু থেকেই রাজস্ব আহরণে করে আসছিলেন প্রতিটি স্পটের বনরক্ষীরা। কিন্তু গত বছরের ১৮ অক্টোবর সাতটি স্পটের মধ্যে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে পর্যটকদের প্রবেশ ফি ও সার্ভিস চার্জ আদায়ের জন্য দরপত্র আহ্বান করে বন বিভাগ। সর্বোচ্চ দরদাতা মেসার্স ইমন মেডিকেল হল অ্যান্ড ঠিকাদার নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ১১ নভেম্বর ইজারাদা দেয়া হয়।
করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবীর বলেন, ‘বন বিভাগের ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর আগে ২০১১-১২ অর্থবছরে একবার রাজস্ব আহরণে ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। এরপর থেকে আর কেউ দরপত্র আহ্বানে সাড়া দেয়নি।’