ঋতু পরিক্রমায় পৌষ ও মাঘ এ দুই মাস শীতকাল হলেও দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে মধ্য কার্তিকেই শুরু হয়েছে শীতের আমেজ। প্রকৃতিতে রাতের বেলা ও ভোরে ঘন কুয়াশার উপস্থিতি জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। কুয়াশার স্থায়িত্ব স্বল্প সময়ের জন্য হলেও ঠাণ্ডা বাতাস বয়ে যাওয়ার কারণে এ জেলার মানুষ সকালে ও সন্ধ্যায় গরম কাপড় ছাড়া বাইরে বের হতে পারছে না। রাতে ঘুমাতে লাগছে কম্বল ও লেপ। দিনের প্রথম প্রহরে সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার বলছে, হিমালয় কাছাকাছি ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগেভাগেই পড়েছে শীতের প্রভাব। গত ২৪ অক্টোবর থেকে গতকাল পর্যন্ত টানা ১০ দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় তেতুঁলিয়ায়। মঙ্গলবার তেতুঁলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সামান্য ব্যবধানে শ্রীমঙ্গলে রেকর্ড করা হয় ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল আবারো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।
সরেজমিনে সকালবেলা জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শহরাঞ্চলের চেয়ে গ্রামাঞ্চলে কুয়াশা ও ঠাণ্ডা বেশি। এছাড়া নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে ঘন কুয়াশাও দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে জেলার উচ্চ ও মধ্যবিত্তরা শীতের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। তবে নিম্ন আয়ের মানুষের শীতের প্রস্তুতি নেই।
এদিকে জেলার হাটবাজারগুলোতে লেপ-তোশক তৈরির দোকানগুলোর কারিগরদের ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। জেলা শহরের কদমতলা সড়কের তুলা ব্যবসায়ী মনসুর আলম জানান, গত বছরের চেয়ে এবার তুলার দাম বেশি। বর্তমানে উচ্চ ও মধ্যবিত্তরা আগেভাগেই লেপ সেলাই করতে আসছেন। এছাড়া বিভিন্ন মার্কেটে শীতের কাপড় বিক্রি শুরু হয়েছে। জেলা শহর ও উপজেলার বাজারগুলোতে রাস্তার পাশে দেখা যাচ্ছে কিছু মৌসুমি হকার শীতের কাপড়ের দোকান বসিয়েছেন।
তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ জানান, গত ২৪ অক্টোবর থেকে ১০ দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫-১৭ ডিগ্রির ঘরে।
স্থানীয় পরিবেশ পরিষদের সভাপতি পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক তোহিদুল বারী বাবু জানান, বর্তমানে তাপমাত্রা নিচের দিকে নামছে। তাপমাত্রা কমবেশি যে মাত্রার হোক না কেন, যেহেতু আমরা হিমালয়ের কাছাকাছি আছি, এজন্য হিমালয়ের পরোক্ষ প্রভাব আমাদের পঞ্চগড়ের আবহাওয়ায় পড়ে যায়।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে জানান, পঞ্চগড়ে শীত মোকাবেলার জন্য জেলা প্রশাসনের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ২৬ হাজার কম্বল এ জেলায় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জেলার পাঁচটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এ কম্বল বিতরণ করা হবে।
জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমেও শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নেয়া হবে। এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে শীতবস্ত্র ক্রয়ের জন্য ৫ লাখ বরাদ্দ পাওয়া গেছে।