ইবিতে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতিকে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা কর্মচারীর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারী একই বিভাগের বিনা বেতনের কর্মচারী ফজলু। ছুরিকাঘাতের পর তিনি নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।

বুধবার দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্ভুক্ত সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যানের দফতরে এ ঘটনা ঘটে।

বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে, ফজলু ওই বিভাগের একজন থোক বরাদ্দপ্রাপ্ত ডে-লেবার। তিনি কয়েক বছর যাবৎ বিভাগের সুপারিশে ডে-লেবার ভিত্তিতে বেতন পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে তাকে ‘আওয়ামী লীগ’ ট্যাগ দিয়ে বেতন থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি সভাপতি তাকে অন্য বিভাগে বদলি করে দেন। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন ফজলু। কয়েক দফায় বিভাগের সভাপতি আসমা সাদিয়া লুনার সঙ্গে বাকবিতন্ডাও হয়েছিল তার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার দিন দুপুরে ফজলু সভাপতির কক্ষে প্রবেশ করে প্রথমে বাকবিতন্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি সঙ্গে থাকা ধারালো অস্ত্র বা ছুতি দিয়ে আসমা সাদিয়া লুনার গলায় আঘাত করেন এবং পরে নিজের গলায় আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

হামলার আকস্মিকতায় উপস্থিত শিক্ষক-কর্মকর্তারা হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। চিৎকার শুনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ছুটে এসে তাদের দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যায় এবং সেখান থেকে তাদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার হাসান ইমাম জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে আসমা সাদিয়া রুনা মারা গেছেন।

এদিকে এ ঘটনার পর এক জরুরি বৈঠকে নিন্দা জানিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কীভাবে ধারালো অস্ত্র নিয়ে কোনো কর্মচারী অনায়াসে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের কক্ষে প্রবেশ করলেন—তা খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে বেতনসংক্রান্ত ও বদলি-সংক্রান্ত অভিযোগগুলোও তদন্তের আওতায় আনা হবে।

এ ঘটনায় শিক্ষক সমিতি ও কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতি পৃথক বিবৃতি দিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সহিংসতা কেবল ব্যক্তি আক্রমণ নয়, পুরো একাডেমিক পরিবেশের ওপর আঘাত। দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

ঘটনার পরপরই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে।

ঘটনার পেছনে ব্যক্তিগত ক্ষোভ, প্রশাসনিক বিরোধ নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে।

আরও