প্রত্যাহার করা হচ্ছে চাপাতলা মালোপাড়ার পুলিশ ক্যাম্প

যশোরের অভয়নগর উপজেলার চাপাতলা মালোপাড়া তাণ্ডবের সাড়ে ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় জড়িত কয়েকজন পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেও জামিনে বের হয়ে হুংকার দিচ্ছে দেখে নেয়ার। এ পরিস্থিতিতে প্রত্যাহার করা হচ্ছে সেখানকার অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পটি। এ খবরে নতুন উত্কণ্ঠায় চাপাতলার বাসিন্দারা।

যশোরের অভয়নগর উপজেলার চাপাতলা মালোপাড়া তাণ্ডবের সাড়ে ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় জড়িত কয়েকজন পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেও জামিনে বের হয়ে হুংকার দিচ্ছে দেখে নেয়ার। এ পরিস্থিতিতে প্রত্যাহার করা হচ্ছে সেখানকার অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পটি। এ খবরে নতুন উত্কণ্ঠায় চাপাতলার বাসিন্দারা।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অস্থায়ী এ ক্যাম্প প্রত্যাহার করে নেয়া হলেও আইন-শৃঙ্খলা অবনতির কোনো ভয় নেই। সার্বক্ষণিক পুলিশি নজরদারি থাকবে।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেয়ার অপরাধে কয়েকশ অস্ত্রধারী অতর্কিত হামলা চালায় মালোপাড়ায়। হামলাকারীরা ২০-২৫টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি ছাড়াও শতাধিক বাড়িঘরে ভাংচুর এবং ঘরে থাকা মালামাল লুটপাট করে। পুড়িয়ে দেয় ১০টি বাড়ি। হামলায় আহত হন অন্তত ২৫ জন। এ সময় আতঙ্কিত গ্রামবাসী পার্শ্ববর্তী ভৈরব নদ সাঁতরে ও ইঞ্জিনচালিত নৌকায় পার হয়ে দেয়াপাড়া গ্রামের পালপাড়া এলাকার পূজামণ্ডপে আশ্রয় নেন। পরদিন প্রশাসন ও রাজনৈতিক-সামাজিক নেতাদের সহায়তায় গ্রামে ফেরেন তারা। এ ঘটনার পর নড়ে ওঠে সারা দেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আসেন এ গ্রামে। কিন্তু এত কিছুর পরও বুকের ক্ষত যায়নি এখানকার মানুষের।

সেদিনের হামলায় রক্তাক্ত জখম হওয়া বিশ্বজিৎ সরকার উত্কণ্ঠা জড়িত কণ্ঠে বলেন, পুলিশ আছে বলে এখন তো রাতে ঘুমাতে পারি। কিন্তু ক্যাম্পটি উঠে গেলে আমাদের গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে হবে। কারণ যারা হামলা করেছিল, তারা তো জামিন নিয়ে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। হুঙ্কার দিচ্ছে দেখে নেয়ার।

পুলিশ ক্যাম্পটি রক্ষার দাবিতে গত সোমবার যশোরের পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন মালোপাড়ার বাসিন্দারা। ২৩৬ পরিবার প্রধানের স্বাক্ষরিত ওই স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, পুলিশ ক্যাম্পটি প্রত্যাহার করা হলে মালোপাড়ায় তাদের বসবাস অসম্ভব হয়ে পড়বে। গ্রামের অনেকে বাপ-দাদার পৈতৃক ভিটাবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ারও প্রস্তুতি নিয়েছে।

তবে যশোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন জানিয়েছেন, সব অস্থায়ী ক্যাম্প পর্যায়ক্রমে উঠে যাবে। তবে এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। যখন অস্থায়ী ক্যাম্পগুলো করা হয় তখন পুলিশ ও গাড়ির সংখ্যা ছিল কম। এখন পুলিশ সংখ্যা ছাড়াও সব সুবিধা বেড়েছে। ফলে আইন-শৃঙ্খলা অবনতি হওয়ার কোনো ভয় নেই। এছাড়া অস্থায়ী ক্যাম্প তুলে নিলেও তদন্ত কেন্দ্রের লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়ানো হবে। ফলে যেকোনো এলাকায় নজরদারি সহজ হবে।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, পুলিশ সদর দপ্তর দেশের সব অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেয় কয়েক মাস আগে। ২০ জুলাই পুলিশের অনলাইন করফারেন্সেও এ বিষয়টি বিশদভাবে আলোচিত হয়। এ বৈঠকের পর খুলনা রেঞ্জের ডিআইজ ড. খ. মহিদ উদ্দিন খুলনা বিভাগের ১৫৩টি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের সর্বশেষ অবস্থা জানানোর জন্য ১০ জেলার পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেন। এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অস্থায়ী ক্যাম্পগুলো প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তবে অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাজুল ইসলাম জানান, অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যাহারের ব্যাপারে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে আলাপ-আলোচনা চলছে। এখনো চাপাতলা মালোপাড়ার ক্যাম্পটির ব্যাপারে লিখিত কোনো নির্দেশনা আসেনি। ফলে এ মুহূর্তে ক্যাম্পটি উঠছে না।

আরও