দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তের ৩ জেলায় পুশ ইনের চেষ্টা ব্যর্থ, বিজিবির সঙ্গে পাহারায় স্থানীয়রা

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) দেশটির বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন জড়ো করে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর সীমান্তে দিয়ে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ ধরনের একাধিক চেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

স্থানীয় ও সীমান্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবির পাশাপাশি এখন স্থানীয় গ্রামবাসীরাও রাত-দিন পালাক্রমে পাহারায় অংশ নিচ্ছেন। জোরদার করা হয়েছে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ও নজরদারি।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও মেহেরপুরের গাংনী সীমান্তের একাধিক স্থান দিয়ে ১০ থেকে ১৫ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা করা হয়। তবে ৪৭ বিজিবির কঠোর নজরদারি ও দ্রুত প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের কারণে এসব চেষ্টা সফল হয়নি। ৪৭ বিজিবির আওতাধীন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের প্রায় ৪৬ কিলোমিটার, চুয়াডাঙ্গার ৫৮ কিলোমিটার এবং মেহেরপুরের গাংনী সীমান্তের ৩৬ কিলোমিটার এলাকা বর্তমানে কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। বিজিবি সদস্যরা দিন-রাত টহল দিচ্ছেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে বিজিবি সদস্যদের পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। অনেক গ্রামবাসী পালাক্রমে বিজিবির সঙ্গে টহলে অংশ নিচ্ছেন। মাইকিং, বাঁশি বাজিয়ে সতর্ক করা এবং সন্দেহজনক গতিবিধি পর্যবেক্ষণের মতো কার্যক্রমেও তারা সহযোগিতা করছেন।

দৌলতপুর সীমান্তের চিলমারী চল্লিশপাড়া এলাকার বাসিন্দা নকীব উদ্দিন বান্না বলেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মানুষ ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা আমরা মেনে নেব না। বিজিবি দিনরাত যেভাবে কাজ করছে, তাতে অনুপ্রবেশের সুযোগ নেই। আমরাও তাদের সঙ্গে থেকে সহযোগিতা করছি।

৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, তাদের আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় একাধিকবার পুশ ইনের চেষ্টা করা হয়েছে, তবে প্রতি ক্ষেত্রেই তা প্রতিহত করা হয়েছে। সীমান্তে ২৪ ঘণ্টা টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সতর্কতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোয় অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে আরো জনবল বাড়ানো হবে। তিনি আরো বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাদের সক্রিয় সহযোগিতার ফলে অনেক ক্ষেত্রেই তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে। এজন্য তিনি সীমান্তবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সবশেষ গত ৩১ মে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইন করে বিএসএফ। ওইদিন ভোর ৫টার দিকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশের সময় তাদের আটক করে বিজিবির বারাদি ক্যাম্পের সদস্যরা। আটকদের মধ্যে ২ জন পুরুষ, ৩ জন নারী ও ৫ জন শিশু রয়েছে। পরে তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

আরও