এতে হাসপাতালের ভর্তি থাকা ৮৮ জন রোগী, তাদের স্বজন ও বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা শত শত মানুষ চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। টয়লেট ও বাথরুমে পানি না থাকায় পুরো হাসপাতাল এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে, যা রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
সরজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের পানির কলগুলো থেকে এক ফোঁটা পানিও পড়ছে না। বাধ্য হয়ে ভর্তি রোগীর স্বজনরা দূরবর্তী খাল বা পুকুর থেকে বালতি ভরে পানি সংগ্রহ করছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চার-পাঁচদিন ধরে পানি না থাকায় তারা গোসল করতে পারছেন না। বিশেষ করে মলমূত্র ত্যাগের পর পরিষ্কার হতে গিয়ে তারা অবর্ণনীয় কষ্টে পড়ছেন। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে রোগীরা সুস্থ হওয়ার বদলে আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠার সময় স্থাপিত সাবমার্সিবল টিউবওয়েলটি এখন অকেজো হয়ে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবুল খায়ের রাসেল জানান, টিউবওয়েলের সঙ্গে গভীর নলকূপের সংযোগ। তবে দীর্ঘদিন ধরেই টিউবওয়েলটিতে সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে তিনবার মোটর পরিবর্তন করা হলেও প্রতিবারই তা পুড়ে যায়। বর্তমানে পরীক্ষায় দেখা গেছে, মাটির নিচে পানির স্তর (লেয়ার) পাওয়া যাচ্ছে না।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টিউবওয়েলের পাইপ ওয়াশ করার কাজ শুরু হয়েছে। এতে যদি পানির সমাধান না হয়, তবে বিকল্প হিসেবে হাসপাতালের পুকুর থেকে অস্থায়ীভাবে বাথরুমে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। নতুন একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে অবহিত করেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।