ইলিশের আকার বড় হলেও নদ-নদীতে ধরা পড়ছে কম

সাগরে মাছ আহরণে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল সরকার। ২৩ জুলাই সে নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে।

সাগরে মাছ আহরণে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল সরকার। ২৩ জুলাই সে নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে। এ সময়ে সাগরে মাছ আহরণ নিষিদ্ধ থাকলেও নদ-নদী ছিল এর আওতামুক্ত। মার্চ ও এপ্রিল জাটকা সংরক্ষণ অভিযান শেষে ঋণের বোঝা নিয়ে ১ মে থেকে ইলিশ আহরণে নদ-নদীতে নামেন জেলেরা। গত তিন মাসে প্রত্যাশিত ইলিশ ধরা পড়েনি জালে। তবে যেগুলো ধরা পড়ছে তার বেশির ভাগই আকারে বলে জানিয়েছেন জেলেরা।

জেলেরা বলছেন, মৌসুমের এ সময়ে নদ-নদীতে জাল ফেলে যে পরিমাণ মাছ পাওয়া যাচ্ছে, তাতে লাভ দূরে থাক নৌকার জ্বালানি খরচই উঠছে না। বরিশালের মেঘনা, কালাবদর, ইলিশা, আড়িয়াল খাঁ, লতা, কীর্তনখোলা, সন্ধ্যা, বলেশ্বর, বিষখালী, তেঁতুলিয়া, টর্কি, বুড়িশ্বর, খায়রাবাদ, সুগন্ধা, গাবখান, জাংগালিয়া, বাসন্ডা, পায়রা, আন্ধারমানিক, লোহালিয়া, আগুনমুখা, নয়াভাঙ্গলি, কচা, রামনাবাদ দিন-রাত জাল ফেলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। মাছ না পেয়ে এ অঞ্চলের ছয় জেলার ৪ লাখ ২১ হাজার ৯৩ জেলে আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

অবশ্য মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, ‘‌শিগগিরই জেলেদের জালে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়বে।’ বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নাসির উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কঠোর অবস্থানে গিয়ে জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রম সফল করা হয়েছে। পাশাপাশি বৃষ্টি থাকলে বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়বে। পরিমাণও বাড়বে।’

বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, পাইকার বা শ্রমিকদের তেমন একটা হাঁকডাক নেই। যে মাছ আসছে তা স্থানীয় বাজারের চাহিদাই পূরণ করতে পারবে না। পাইকার ও শ্রমিকরা অনেকটা অলস সময় পার করছেন।

বরিশাল পোর্ট রোডের লিয়া মৎস্য আড়তদার রুবেল বলেন, ‘নদ-নদীতে জেলেদের জালে যে মাছ ধরা পড়ছে, তা আকারে বড়। কয়েক দিন ধরে মোকামে গড়ে ৫০-৬০ মণ করে ইলিশ সরবরাহ হয়েছে। এসবের মধ্যে এলসি (৬০০-৯০০ গ্রাম) আকারের ইলিশ প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০-১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ১ কেজি আকারের ইলিশ ১ হাজার ৭০০-১ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০-১ হাজার ৫০০ টাকা দরে।’

মৎস্য আড়তদার মালিক সমিতির নেতা ও জেলা মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি খান হাবিব বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মৌসুমের এ সময় প্রতিদিন প্রায় ৮০০-১০০০ মণ ইলিশ আসত আড়তে। সেখানে এ বছর প্রতিদিন মাছ আসছে মাত্র ৫০-৬০ মণ। তার ওপর চলমান পরিস্থিতি ও কারফিউর কারণে ১৬ জুলাই থেকে পরিবহন সংকটে ইলিশ তেমন একটা আসছে না। আর যাও আসছে তা বরিশালের বাইরে পাঠানো সম্ভব হয়নি। ব্যবসায়ীরাও আসতে পারেননি। কারফিউর কারণে অনেক পরিবহন মালিক তাদের গাড়ি চালাতে নারাজ। তাই সরবরাহ বন্ধ।’

বরিশাল জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা (ইলিশ) ড. বিমল চন্দ্র দাস বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ইলিশ ধরার জন্য উত্তম সময়। এ সময় মেঘনাসহ অন্য নদ-নদীতে বড় আকারের ইলিশও ধরা পড়বে। গত সপ্তাহের চেয়ে শনিবার সকালে পোর্ট রোড মৎস্য মোকামেও সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে।’

আরও