সাভারে দিনে স্বাভাবিক থাকলেও রাতে দীর্ঘ যানজট

বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে খুব কষ্ট করে বাড়ি যাচ্ছি। বৃষ্টির কারণে আরও কষ্ট হচ্ছে। ৮০০ টাকার ভাড়া ১ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হচ্ছে। আমাদের কিছু করার নেই।

দিনের বেলায় পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে নবীনগর, বাইপাইল ও ধামরাইয়ের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ঘরমুখো যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। মঙ্গলবার (মঙ্গলবার) রাত ৮টার দিকে মহাসড়কের বিশমাইল বাসস্ট্যান্ড থেকে নবীনগর এবং নবীনগর থেকে বাইপাইল এলাকায় গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যায়। যানবাহনগুলোকে থেমে থেমে ও ধীরগতিতে চলতে দেখা গেছে।

এদিকে ধামরাইয়ের ইসলামপুর থেকে বারবারিয়া পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক মহাসড়কের কালামপুর থেকে কাওয়ালীপাড়া পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় ধীরগতিতে যান চলাচল করছে। শিল্পকারখানাগুলোতে একযোগে ছুটি ঘোষণার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১ সূত্রে জানা গেছে, সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই এলাকায় তৈরি পোশাকশিল্প (আরএমজি) ও অন্যান্য (নন-আরএমজি) মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৭০৫টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত সোমবার বিকেল পর্যন্ত এসব কারখানার প্রায় ৩১ শতাংশে ছুটি ঘোষণা করা হয়। আর মঙ্গলবার দুপুরের পর আরও ৪৭ শতাংশ শিল্পকারখানায় ছুটি দেয়া হয়। ফলে দুপুরের পর থেকেই সড়কগুলোতে যাত্রীদের চাপ বাড়তে শুরু করে।

এ অবস্থায় বিভিন্ন দূরপাল্লার বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং টিকিট কেটেও নির্ধারিত সময়ে বাস না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। নবীনগর ও বাইপাইল বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষমাণ কয়েকজন যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঈদকে পুঁজি করে পরিবহনগুলো দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া দাবি করছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে টিকিট কেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাসের দেখা মিলছে না।

পোশাকশ্রমিক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কুড়িগ্রাম যাব। সব ঈদেই বাড়তি ভাড়া নেয়। এবার বাইপাইল থেকে রংপুরের ভাড়া চাচ্ছে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। যে যেভাবে পারছে, সেভাবেই নিচ্ছে।’

রাশেদ নামের আরেক পোশাকশ্রমিকের সঙ্গে কথা হয় দুপুরে নবীনগর বাসস্ট্যান্ডে। পরিবার নিয়ে তিনি রংপুর যাবেন। বৃষ্টির মধ্যে পরিবার নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন তিনি। দ্বিগুণের বেশি ভাড়া দিয়ে একটি বাসে উঠেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে খুব কষ্ট করে বাড়ি যাচ্ছি। বৃষ্টির কারণে আরও কষ্ট হচ্ছে। ৮০০ টাকার ভাড়া ১ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হচ্ছে। আমাদের কিছু করার নেই।’

যানজটের বিষয়ে কথা হয় গ্রিনলাইন পরিবহনের চালক রাসেলের সঙ্গে। তিনি জানান, বিকেলের পর থেকে সড়কে চাপ বেড়েছে। বাইপাইলে যানজট থাকায় তিনি কালামপুর হয়ে মির্জাপুর দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সেখানেও যানজটে আটকে আছেন। কখন এই যানজট শেষ হবে, তা বলতে পারছেন না তিনি।

ঢাকা জেলা (উত্তর) ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) রুহুল আমিন সোহেল বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত ৬৫০ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিকেলের পর থেকে মহাসড়কে চাপ বেড়েছে, ফলে কিছু কিছু স্থানে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ভোগান্তি কমাতে তারা কাজ করছেন। এছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে দূরপাল্লার বাস দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকায় যাতে যানজট না বাড়ে, সে বিষয়েও বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে।

আরও