টেকনাফে বিশেষ অভিযানে তাজা গ্রেনেড, গুলি ও মাদক উদ্ধার

টেকনাফের নাফ নদী সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১০টি তাজা গ্রেনেড, ২৮ রাউন্ড তাজা গুলি এবং ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। আজ রোববার দুপুরে টেকনাফের জাদিমুড়া বৌদ্ধ মন্দির সংলগ্ন লবণ মাঠে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান টেকনাফ কোস্ট গার্ড স্টেশনের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মোক্তাদীন ছিদ্দিকী।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে মিয়ানমারের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়। কোস্ট গার্ডের কাছে তথ্য ছিল, জাদিমুড়া এলাকার নাফ নদী সংলগ্ন সীমান্তপথ ব্যবহার করে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও গ্রেনেড মাটির নিচে মজুত করে রেখেছে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার দিবাগত রাতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের একপর্যায়ে জাদিমুড়া এলাকায় মাটির নিচে কৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় মিয়ানমার সামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত দুটি ৩৬এম এমকে-১ হ্যান্ড গ্রেনেড, ৮টি ৪০এমএম এইচইডিপি গ্রেনেড এবং ২৮ রাউন্ড ৭.৬২ মিলিমিটার তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। একই স্থান থেকে দুই কেজি গাঁজাও জব্দ করা হয়। তবে কোস্ট গার্ড সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা অন্ধকারের সুযোগে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, উদ্ধার হওয়া এসব ধ্বংসাত্মক গোলাবারুদ অসৎ ব্যক্তিদের হাতে পড়লে কিংবা বিস্ফোরিত হলে সাধারণ মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারত। কোস্ট গার্ডের এ সফল অভিযানের মাধ্যমে সীমান্ত ব্যবহার করে সম্ভাব্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার গ্রেনেড, গুলি ও মাদকদ্রব্য পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সমুদ্রসীমা ও নাফ নদী এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও মানবপাচার এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর অপতৎপরতা রোধে তাদের অভিযান ও নজরদারি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আরও