তিন দফা দাবি শিক্ষার্থীদের

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকাল বর্জনের ঘোষণা

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও ক্যান্টিনকর্মীর বিরুদ্ধে ছাত্রীদের গোপনে ভিডিও ধারণ অভিযোগের বিচার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

তিন দফা দাবি না মেনে নেয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন তারা।

গত বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে দাবিগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়নের আশ্বাস না পাওয়ার অভিযোগ তুলে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। তবে প্রশাসন আইনি জটিলতার কথা উল্লেখ করে কোনো দাবিই তাৎক্ষণিকভাবে মেনে নেয়নি। দাবিগুলোর বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

দাবিগুলো হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় ’২৪ হলের ছাত্রীদের ভিডিও ধারণের অভিযোগে অভিযুক্ত ক্যান্টিনকর্মী ইমাম হাসানের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট বডিকে জবাবদিহির আওতায় আনা; যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রুবেল আনছার ও এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে অতিদ্রুত স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা এবং সম্প্রতি গঠিত ‘স্পন্দন-২৪’ ক্লাবের নিবন্ধন বাতিল করা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্লাবটি গঠনের প্রক্রিয়া ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশাসন দাবিগুলোর বিষয়ে সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে সময়ক্ষেপণ করেছে। তাদের ভাষ্য, কার্যকর পদক্ষেপের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

এর আগে বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে হাদি চত্বরে অবস্থান নিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দিনভর একাধিক জরুরি সভা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সভায় অভিযুক্ত ক্যান্টিনকর্মী ইমাম হাসান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে হরিণটানা থানায় মামলা করার বিষয়টি জানানো হয়। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন, অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচালিত ক্যান্টিনের বরাদ্দ বাতিল, হলের ভেতর কর্মচারীদের মুঠোফোন বহন নিষিদ্ধ, অপরাজিতা ও বিজয় ’২৪ ছাত্রী হলে পুরুষ কর্মী নিয়োগ না দেয়া এবং ক্যান্টিন পরিচালনায় কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রুবেল আনছারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে রিভিউ আবেদন পাওয়া সাপেক্ষে পুনঃতদন্তের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এছাড়া এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের সাময়িক বরখাস্ত শিক্ষক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে চলমান দুটি তদন্ত কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি চলতি টার্মের নিবন্ধনের সময় ৪ আগস্ট পর্যন্ত জরিমানা ছাড়া এবং ১১ আগস্ট পর্যন্ত জরিমানাসহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বুধবার রাতে বিজয় ’২৪ হলের ছাত্রীদের শৌচাগার ও গোসলখানার ভেন্টিলেটর দিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে ক্যান্টিনকর্মীকে আটক করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। একই ঘটনায় তার স্ত্রীকেও গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও যৌন হয়রানির অভিযোগগুলোর বিচার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

গত ১৮ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে মেসেঞ্জারে অশালীন বার্তা পাঠানো ও কুপ্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে ডিসিপ্লিন প্রধানের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের গঠিত সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি অভিযোগের তদন্ত করছে।

গত বছরের আগস্টে বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রুবেল আনছারের বিরুদ্ধে দুই ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। তদন্ত শেষে গত ২৮ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় একটি অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। তবে অন্য অভিযোগে তাকে দুই বছরের জন্য পাঠদান, পরীক্ষা গ্রহণসহ সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

আরও