বছরে সাত হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ করে প্রতিষ্ঠানটি। অথচ চাহিদার তুলনায় জনবল ঘাটতির কারণে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আহরণ করতে পারছে না সংস্থাটি। বর্তমানে বেনাপোল কাস্টম হাউজে অতিরিক্ত কমিশনারের দুটিসহ মোট ৪৯টি পদ শূন্য রয়েছে।
জানা যায়, ২০০০ সালে বেনাপোল কাস্টম হাউজ চালু হয়। এর আগে মোংলা কাস্টমসের অধীনে এটি পরিচালিত হতো। তবে গত ২০ বছরের মধ্যে এখানে জনবল নিয়োগ করা হয়েছে একবার। ফলে কাস্টম হাউজটিতে কাজের জট তৈরি হচ্ছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের ১৮২টি শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ২০২৩ সালে কিছু জনবল নিয়োগ করা হয়।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোল কাস্টম হাউজে মোট মঞ্জুরীকৃত পদের সংখ্যা ১৫৯। এর মধ্যে শূন্য পদের সংখ্যা ৪৯। যার মধ্যে অতিরিক্ত কমিশনারের দুটি, যুগ্ম কমিশনারের দুটি পদের একটি, উপকমিশনারের চারটি, সহকারী কমিশনারের আটটি পদের মধ্যে দুটি, রাজস্ব কর্মকর্তার চারটি, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার ১২০টি পদের বিপরীতে ৩৬টি পদ খালি রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, ‘বেনাপোল দিয়ে দেশের বেশির ভাগ পণ্য আমদানি হয়ে থাকে। যে কারণে কাস্টমসের জনবল কম থাকা উচিত না। এদিকে সরকারকে নজর দিতে হবে।’ কাস্টমস ও বন্দরের উন্নয়ন হলে বছরে এখান থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ সম্ভব হবে বলেও দাবি করেন তিনি।
বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে (জুলাই-এপ্রিল) বন্দরটি দিয়ে আমদানি করা হয় ১৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩৩১ টন পণ্য। বিপরীতে রফতানি হয় ২৬ হাজার ২৫৪টি পণ্য চালান। আর চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (জুলাই-এপ্রিল) আমদানি করা হয় ১১ লাখ ৬৭ হাজার ৫১৬ টন। রফতানি করা হয় ৬ হাজার ৬৫৯টি পণ্য চালান।
এর আগে বেনাপোল দিয়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরে আমদানি করা হয় ২০ লাখ ৩৫ হাজার ৪৯৯ টন পণ্য। আর ২০২১-২২ অর্থবছরের হয়েছিল ২১ লাখ ৭৯ হাজার ৪২০ টন। এ হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে আমদানি কমেছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯২১ টন পণ্য। এতে সরকারের রাজস্ব আয়ও কমে গেছে।
এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২০ লাখ ৩৮ হাজার ৬৪ টন এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২০ লাখ ১১ হাজার ৬ টন পণ্য আমদানি করা হয়।
যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন, ‘কাস্টমসের জনবল কম থাকায় স্বাভাবিকভাবে কাজের গতি কমে যায়। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। আবার যারা কর্মরত আছেন, তাদের বাড়তি কাজের চাপ নিতে হচ্ছে। এজন্য সরকারকে দ্রুত বেনাপোল কাস্টমসে লোকবল নিয়োগ দিতে হবে।’
২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমসের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা, সেখানে আহরণ হয়েছে ৭ হাজার ২৯ কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১১ হাজার ২৯০ কোটি টাকা, তবে এপ্রিল পর্যন্ত আহরণ হয়েছে ৫ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা।
এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা, সেখানে আহরণ হয় ৫ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ২৪৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, আহরণ হয়েছে ৪ হাজার ১৪৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা। ওই বছর ঘাটতি ছিল ২ হাজার ৯৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।
বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার মো. ফাইজুর রহমান বলেন, ‘জনবল সংকট থাকায় কাজের গতি কমে যাচ্ছে। আবার যারা কাজ করছেন তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। সেই সঙ্গে আমদানিও কমে যাচ্ছে। আবার আমদানি পণ্যের মধ্যে বেশির ভাগ শুল্কমুক্ত পণ্য থাকছে। আমদানি বাড়লে শুল্ক আদায় বেশি হবে, আর আমদানি কমে গেলে রাজস্ব আহরণও কমে যাবে।’