সম্প্রতি ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টের প্রকোপ বেড়েছে। বাংলাদেশেও শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের চিকিৎসায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ফের চালু হয়েছে করোনা ইউনিট। তবে এ ক্ষেত্রে অনেকটা অপ্রস্তুত রয়েছে রাজবাড়ী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল। জেলার বিশেষায়িত হাসপাতালটিতে নেই করোনা পরীক্ষার কিট। এমনকি সেবাদানকারীরা পাননি সুরক্ষাসামগ্রী। এখনো প্রস্তুত করা হয়নি আইসিইউ। অবশ্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, কিট চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে। সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, জেলায় এখনো কেউ করোনা আক্রান্ত না হলেও প্রতিদিনই জ্বর, মাথাব্যথাসহ করোনার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য আসছেন রোগীরা। কিট না থাকায় ফিরে যেতে হচ্ছে তাদের। কেউ কেউ ছুটছেন ফরিদপুর, কুষ্টিয়া ও ঢাকায়।
অবশ্য যারা রোগীর পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দেবেন সেসব সেবিকা ও কর্মীদেরই দেয়া হয়নি সুরক্ষাসামগ্রী। ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিতে হচ্ছে তাদের।
হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. ফরিদ শেখ বলেন, ‘হাসপাতাল প্রতিদিন শত শত রোগী আসছেন। এসব রোগীর পরীক্ষার জন্য মাত্র দুজন টেকনোলজিস্ট রয়েছেন। এজন্য রিপোর্ট দিতেও সময় লাগছে বেশি। পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীর চাপও রয়েছে। প্রতিদিন দুই-চারজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালে জনবল বাড়ানো প্রয়োজন।’
করোনা মোকাবেলায় ইআরপিপি প্রকল্পের আওতায় হাসপাতালটিতে আইসিইউ ইউনিট শুরু করার কথা ছিল ২০২০ সালের শেষের দিকে। তবে এখনো শুরু হয়নি আইসিইউ ইউনিটের কার্যক্রম। অথচ হাসপাতালের প্রবেশ পথেই টানিয়ে রাখা হয়েছে আইসিইউ সেবার সাইনবোর্ড।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এসএমএ হান্নান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে আগের সুরক্ষাসামগ্রীগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে নষ্ট হয়েছে। নতুন করে ৩০ হাজার কিট চেয়ে আবেদন করা হলেও পাওয়া যায়নি। কিটগুলো পাওয়া গেলে করোনা পরীক্ষা শুরু হবে। আর আইসিইউ ইউনিটের কাজ শেষের দিকে। জনবল না থাকায় সেটিও চালু করা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।’
সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শুধু রাজবাড়ী সদর নয়, জেলার কোনো হাসপাতালেই করোনা পরীক্ষার কিট নেই। জেলা প্রশাসনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিট না পাওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনা প্রতিরোধ করতে হবে।’