প্রযুক্তিক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

প্রযুক্তি খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, পৃথিবীর সব রাষ্ট্রই এখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নিজেদের শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলছে। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নতুন এই বিশ্ব ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত যেকোনো অসামর্থ্যই দেশকে পিছিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। বাংলাদেশকেও প্রযুক্তিক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে নিরন্তর গবেষণা। নিত্যনতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও তার প্রসারের ওপরই নির্ভর করে দেশের সমৃদ্ধি।

প্রযুক্তি খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, পৃথিবীর সব রাষ্ট্রই এখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নিজেদের শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলছে। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নতুন এই বিশ্ব ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত যেকোনো অসামর্থ্যই দেশকে পিছিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। বাংলাদেশকেও প্রযুক্তিক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে নিরন্তর গবেষণা। নিত্যনতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও তার প্রসারের ওপরই নির্ভর করে দেশের সমৃদ্ধি।

গতকাল বিকালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) তৃতীয় সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দুপুরে হেলিকপ্টারে সিলেট আসেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ এখন পৃথিবীর বুকে শান্তিপূর্ণ উন্নয়নশীল একটি দেশ। দারিদ্র্য নিরসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নে বহির্বিশ্বে দেশটি এখন রোল মডেল। বিশ্বে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৮ শতাংশের ওপর। অর্থনীতিবিদদের ধারণা, ২০২৪ সাল নাগাদ এ হার হবে ১০ শতাংশের ওপর।

আবদুল হামিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সময় এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে যাওয়ার, সময় এখন বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর,

পথ চলার।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ও অগ্রযাত্রায় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের মানুষের অবদান খুবই প্রশংসনীয়। এ দেশের দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, পরিশ্রমী, উদ্যমী, লড়াকু ও সংবেদনশীল জনগণের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সফল হবে।

গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে আবদুল হামিদ বলেন, যেকোনো দেশের উন্নয়ন ও ইতিবাচক পরিবর্তনে তরুণ সমাজ-ই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে থাকে। আমাদের দেশও তার ব্যতিক্রম নয়। সুতরাং আজ তোমরা যারা গ্র্যাজুয়েট হলে, আমার সামনে এই যে তরুণ, তোমরা এক-একটি আলোর প্রদীপ, তোমাদের সবাইকে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় এগিয়ে আসতে হবে। নিতে হবে দেশ ও জাতির দায়ভার।

তিনি বলেন, আমি মনে করি তোমাদের মেধা ও শ্রমেই গড়ে উঠবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা। বিশ্ববিদ্যালয়ে কঠোর জ্ঞানতপস্যা ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে তোমরা ডিগ্রি অর্জন করেছ। তোমরা ভালো করেই জানো, তোমাদের বিদ্যালাভ ও সত্যিকার মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার পেছনে যারা শক্তি, সাহস ও অর্থ জুগিয়েছেন তারা হচ্ছেন এ দেশের জনগণ। তাই বাংলাদেশের জনগণের প্রতি জীবনব্যাপী তোমাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা জাতি প্রত্যাশা করে।

লিখিত বক্তব্য শেষে খাদ্যে ভেজাল মেশানো নিয়ে কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, শাকসবজি-ফলমূল সবকিছুতেই এখন ফরমালিন। কমলা দুই মাস পরও পচে না। অথচ আগে সিলেট থেকে যাওয়া কমলা এক সপ্তাহেই পচে যেত।

খাবারে ফরমালিন মিশ্রণকারীদের গণহত্যাকারী আখ্যা দিয়ে আবদুল হামিদ বলেন, এই ভেজালকারীদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তোমরা যারা তরুণরা আছ, তোমাদেরও এ ব্যাপারে দায়িত্ব নিতে হবে। ভেজাল খাবারের বিষয়ে জনগণকে সচেতন করে তুলতে পারো। খাবারে ফরমালিন মিশ্রণকারীদের প্রতিহত করতে না পারলে জাতি পঙ্গু হয়ে যাবে।

প্রায় এক যুগ পর হওয়া শাবিপ্রবির এ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তার বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। শাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার ইশফাকুল আলমের সঞ্চালনায় এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদ।

এবারের সমাবর্তনে মোট ৬ হাজার ৭৫০ শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করেছেন। এদের মধ্যে স্নাতকে ৪ হাজার ৬১৭ জন, স্নাতকোত্তরে ১ হাজার ১২৭, পিএইচডি দুজন, এমবিবিএস ৮৭৮, এমএস ও এমডি ডিগ্রিধারী ছয়জন এবং নার্সিংয়ের ১২০ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।

আরও