সাংবাদিকতায় আগ্রহী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সংগঠনটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নবীনদের স্বাগত জানানো হয়।
রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি আশিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের জিসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা ও কলা অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল হক, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক ও প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এস এম কামরুজ্জামান এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হোসেন বকুল।
অধ্যাপক ড. এস এম কামরুজ্জামান বলেন, সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত থাকলে শুরু থেকেই বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জন করা যায়। পড়াশোনা শেষে কর্মজীবনে গেলে সেই দক্ষতার গুরুত্ব আরো ভালোভাবে বোঝা যায়। সাংবাদিকদের রাষ্ট্রের প্রতিও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে।
প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল হক বলেন, নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে যারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি প্রেসক্লাবের নবীনবরণে অংশ নিয়েছেন, তারা প্রশংসার দাবিদার। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শুধু পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নেতৃত্ব, যোগাযোগ দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য সাংবাদিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হোসেন বকুল বলেন, সাংবাদিকতা শুধু খবর সংগ্রহের কাজ নয়। সমাজ ও রাষ্ট্রকে জানার জন্যও সাংবাদিকতা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, সাংবাদিকতার শেকড় জানতে কাঙাল হরিনাথ ও মোনাজাত উদ্দীনের মতো ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কে জানতে হবে এবং তাদের লেখা ও প্রতিবেদন নিয়ে চর্চা করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা বিষয় নিয়ে সংবাদ করতে হয়। তাই একজন সাংবাদিকের বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তৃত ধারণা থাকা প্রয়োজন।
অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হোসেন বকুল বলেন, সমাজে নৈতিক অবক্ষয় বেড়েছে। মানুষ মানুষকে সম্মান দিয়ে কথা বলার প্রবণতা হারাচ্ছে। লেখা ও কথার মাধ্যমে অন্যকে অসম্মান করার প্রবণতাও বাড়ছে। কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে গণমাধ্যমকে ব্যবহার করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রেসক্লাব জানায়, এবারো সাংবাদিকতায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত আহ্বান জানানো হয়। এতে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেন। তাদের মধ্য থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬টি বিভাগের ৫০ জন শিক্ষার্থীকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে।