জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় আসন্ন জাতীয় বাজেটে পৃথক ও পর্যাপ্ত বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠন ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম। একই সঙ্গে উপকূল রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা নেয়ার আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠনটি। আজ শনিবার দুপুরে সাতক্ষীরার একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপকূলীয় এলাকার জলবায়ু সংকট, পরিবেশগত ঝুঁকি ও মানুষের জীবন-জীবিকার নানা দিক তুলে ধরে ২১ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাধব দত্ত। স্বাগত বক্তব্য দেন ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের প্রধান সংগঠক ও সাংবাদিক নেতা শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন। এ সময় সংগঠনের উপদেষ্টা সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, বিভিন্ন নাগরিক নেতা, পরিবেশকর্মী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দেশের উপকূলীয় অঞ্চল এখন জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমাত্রিক সংকটের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরগুনা ও পটুয়াখালীর মতো জেলাগুলো ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, পানি সংকট ও ভূমি ক্ষয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়তে থাকায় কৃষিজমি ও বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ বলেন, গত দুই দশকে সিডর, আইলা, আম্পান ও রেমালের মতো ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। লবণাক্ততা বাড়ার কারণে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নিরাপদ সুপেয় পানির সংকট, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জীবিকার অনিশ্চয়তা দিন দিন বাড়ছে। একই সঙ্গে জলবায়ুজনিত দুর্যোগের কারণে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতিও বাড়ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপকূল রক্ষায় দ্রুত ‘উপকূল উন্নয়ন বোর্ড’ গঠন, উপকূলকে জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা, জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী ও খাল খনন, নিরাপদ পানির স্থায়ী ব্যবস্থা এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি সম্প্রসারণের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সুন্দরবন রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার কথাও বলা হয়।
এছাড়া উপকূলীয় মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো, দুর্যোগ সহনশীল আবাসন নির্মাণ, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র সংস্কার, উপকূলজুড়ে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা, স্বাস্থ্যসেবা জোরদার এবং সমুদ্রগামী জেলেদের জন্য জীবনবীমা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
মাধব দত্ত বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্যসম্পদ, জীববৈচিত্র্য ও অর্থনীতির জন্য উপকূলীয় অঞ্চল খুব গুরুত্বপূর্ণ। অথচ জাতীয় বাজেটে জলবায়ু ও পরিবেশ খাতে বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় কম। তাই উপকূলের মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় এখনই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন লিডার্সের অ্যাডভোকেসি ও সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মকর্তা বিপাশা অধিকারী ও কর্মসূচি কর্মকর্তা জয়দেব কুমার জোদ্দার।