বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ছাত্ররাজনীতি পুনপ্রতিষ্ঠায়
চার দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। আজ (২ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচিগুলো তুলে ধরা হয়।
সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন কর্তৃক উত্থাপিত কর্মসূচিগুলো হলো ইমতিয়াজ
হোসেন রাহিম রাব্বীর আবাসিক হল ফিরিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে বুয়েট শহিদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচী।
আধুনিক, স্মার্ট, পলিসি নির্ভর নিয়মতান্ত্রিক ছাত্র রাজনীতি প্রতিষ্ঠার কর্মপরিকল্পনা
নির্ধারণে বুয়েট শিক্ষার্থীদের মতামত আহ্বান ও আলোচনা। সাম্প্রদায়িক-মৌলবাদী-জঙ্গিবাদের
কালোছায়া থেকে বুয়েটকে মুক্ত করতে সেমিনার ও সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজন। বুয়েটে ছাত্র সংসদ
নির্বাচনের দাবিতে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক
শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন ও সাধারণ সম্পাদক
তানভীর হাসান সৈকতসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এ সময় লিখিত বক্তব্যে সাদ্দাম হোসেন বলেন, গত ২৯ মার্চ ছাত্র রাজনীতি
বন্ধের নামে স্বৈরাচারী কায়দায় বুয়েট শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ হোসেন রাহিম রাব্বীর আবাসিক
হলের সিট বাতিল করা হয়, তাকে বুয়েট থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি উত্থাপন করা হয়। সাধারণ
শিক্ষার্থীদের আড়ালে লুকিয়ে পরিচয় গোপন করে রাখা নিষিদ্ধ ও আন্ডারগ্রাউন্ড সংগঠনের
কর্মীদের এই অহেতুক দাবি বুয়েট প্রশাসন অবিবেচকের মতো মেনে নিলে প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে
দেশের ছাত্রসমাজ ও রাজনীতি সচেতন গণতন্ত্রকামী মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের অবৈধ আদেশ হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করলে, আদালত তা স্থগিত
করে দেয়। ফলে বুয়েটে নিয়মতান্ত্রিক ছাত্র রাজনীতি পরিচালনা করতে কোনো বাধা নেই।
তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের
মর্মান্তিক মৃত্যুর পর বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তার নৈতিক ও সাংগঠনিক অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ
দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত
করেছেন, আবরারের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু এ ঘটনার প্রেক্ষিতে, প্রশাসন বুয়েট
ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
অতীতেও সমর্থন করেনি, বর্তমানেও করে না।
সাদ্দাম বলেন, বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের পর পাঁচ বছর অতিক্রম হয়েছে।
এ সময়ে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের নামে সেখানে ধর্মীয় উগ্রবাদ মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। স্বাধীনতা
ও বিজয় দিবসকে অবজ্ঞা করা হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে স্মরণ করতে বাধা
দেয়া হয়েছে। স্বাধীনতা সংগ্রামে অগ্রগামী ভূমিকা রাখা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এরূপ কর্মকাণ্ড
কোনোভাবে মেনে নেয়া যায় না।