উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এদিকে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের মনে নতুন করে জেগে উঠেছে বন্যা ও বাঁধ ভাঙনের আতঙ্ক।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বেলা ৩টায় মুহুরী নদীর পানির স্তর রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ৪৫ মিটার, যা বিপৎসীমার (১২ দশমিক ৫৫ মিটার) ১ দশমিক ১০ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আশঙ্কার বিষয় হলো পানি বাড়ার গতি। সকাল ৬টায় যেখানে পানির স্তর ছিল ৯ দশমিক ৩৫ মিটার, সেখানে মাত্র ৯ ঘণ্টার ব্যবধানে বেলা ৩টার মধ্যে তা ২ মিটার বেড়ে ১১ দশমিক ৪৫ মিটারে পৌঁছায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভাঙন এখানকার মানুষের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়। গত দুই বছরেও ভয়াবহ বন্যায় চরম ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার হাজার হাজার মানুষ। এবারো নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় শ্রীপুর, জগৎপুরসহ নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
ফুলগাজী উপজেলার উত্তর শ্রীপুর এলাকার বাসিন্দা মো. মোর্শেদ জানান, পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে থাকলেও ভারতের ত্রিপুরায় ভারি বৃষ্টি হলে যেকোনো মুহূর্তে ঢল নেমে সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
একই উপজেলার জগৎপুর এলাকার বাসিন্দা নূর নবী বলেন, ‘গত কয়েক বছরের বন্যায় আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো দ্রুত মেরামত করা না হলে এবারো রক্ষা পাওয়া কঠিন হবে। আমরা চাই সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নতুন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু হোক।’
ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান জানান, সোমবার বেলা ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে আগামীতে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে আসতে পারে বলে আভাস দেন তিনি।
ফেনীর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম পরিস্থিতির তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘এবারের পানি বাড়ার ধরনটা কিছুটা ব্যতিক্রম। কয়েক দিন ধরে পানি বাড়লেও আবার কমে যাচ্ছিল। কিন্তু সকাল থেকে পানি অত্যন্ত দ্রুত বাড়ছে। পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলে বাঁধের নতুন কিছু ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত হতে পারে।’