বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী লাইসেন্সের বাইরে খালি কনটেইনার সংরক্ষণের সুযোগ না থাকায় বন্দর ও বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হচ্ছে। এতে ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনা জটিল হওয়ার পাশাপাশি বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
এনবিআর চেয়ারম্যানকে পাঠানো বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, শিপিং এজেন্ট বা মেইন লাইন অপারেটরদের (এমএলও) লাইসেন্সবহির্ভূত উপযুক্ত স্থানে খালি কনটেইনার সংরক্ষণের অনুমতি দেয়া হলে বন্দরের পরিচালন কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে এবং বন্দর ব্যবহারকারীদের সেবাও নির্বিঘ্ন হবে।
বর্তমানে খালি কনটেইনারের কাস্টডি মূলত শিপিং এজেন্ট বা মেইন লাইন অপারেটরদের অধীনেই থাকে। কিন্তু জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী, তারা নিজস্ব লাইসেন্সভুক্ত ফ্যাসিলিটির বাইরে অন্য কোনো স্থানে এসব কনটেইনার স্থানান্তর বা সংরক্ষণ করতে পারেন না।
বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বিশ্বের বিভিন্ন সমুদ্রবন্দর এবং প্রতিবেশী দেশের বন্দরগুলোতে শিপিং এজেন্টদের বিকল্প উপযুক্ত স্থানে খালি কনটেইনার সংরক্ষণের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশেও একই ব্যবস্থা চালু করা হলে বন্দর ও ডিপোর ওপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘খালি কনটেইনারের জন্য বন্দর ও ডিপোতে অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হচ্ছে। শিপিং এজেন্টদের লাইসেন্সের বাইরে উপযুক্ত স্থানে খালি কনটেইনার সংরক্ষণের অনুমতি দিলে ইয়ার্ডের চাপ কমবে, অপারেশন আরো গতিশীল হবে এবং বন্দর ব্যবহারকারীদের সেবাও নির্বিঘ্ন হবে। বিশ্বের অনেক দেশেই এ ধরনের ব্যবস্থা চালু রয়েছে।’
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আমদানীকৃত পণ্য খালাসের পর একই কনটেইনারে রফতানি পণ্য বোঝাই করে বিদেশে পাঠানোই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু বাংলাদেশের আমদানি ও রফতানির মধ্যে দীর্ঘদিনের ভারসাম্যহীনতার কারণে বিপুলসংখ্যক কনটেইনার খালি অবস্থায় পড়ে থাকে।
তারা আরো জানান, দেশে অধিকাংশ আমদানি হয় ২০ ফুট কনটেইনারে, অথচ রফতানির বড় অংশ হয় ৪০ ফুট কনটেইনারে। ফলে ২০ ফুটের খালি কনটেইনার দ্রুত ব্যবহার করা সম্ভব হয় না এবং সেগুলো দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করতে হয়।
বন্দর ও বেসরকারি ডিপোর কর্মকর্তারা বলছেন, স্বাভাবিক সময়েও খালি কনটেইনার ইয়ার্ডের বড় একটি অংশ দখল করে রাখে। আবার ভারি বর্ষণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শ্রমিক কর্মবিরতি বা অন্য কোনো কারণে কনটেইনার ডেলিভারি ব্যাহত হলে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে।